উপলক্ষটা বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির ২৫ বছর। উদযাপনে স্কুলের বাচ্চারা খেলল সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট, আঁকল ছবি আর অভিভাবকদের মিলল ‘ক্রিকেট জ্ঞান’। খুলনা, রাজশাহীর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগে দেশব্যাপী ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার যে কার্যক্রম, তাতে দেখা গেল সেই একই দৃশ্য।
রাজশাহী এবং খুলনার সঙ্গে সিলেটের পার্থক্যটা হচ্ছে, সিলেট টেস্ট ভেন্যু। কিছুদিন আগেও এখানে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। সিলেট বিভাগীয় দল জাতীয় ক্রিকেট লিগের চ্যাম্পিয়ন। তবুও এখানে আয়োজন ছিল গৎবাঁধা। সকালে বিসিবি প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল সপারিষদ সিলেটে এসেছেন, মাঠে এসে সিক্স-এ-সাইড ক্রিকেট খেলতে আসা শিশুদের উৎসাহ দিয়েছেন। শিশুরা জার্সি-ক্যাপ পেয়েছে, সঙ্গে দুপুরের খাবার। সিলেটের সাবেক ক্রিকেট, বিভাগীয় দলের কোচ ও অভিষেক টেস্টের দ্বাদশ ব্যক্তি রাজিন সালেহকে দেখা যায়নি মাঠে। ফোনে যোগাযোগ করা হলে সাবেক অধিনায়ক রাজিন জানান, ‘আমি এখন হাই পারফরম্যান্স দলের ক্যাম্পে চট্টগ্রামে। বিসিবির পক্ষ থেকে আমাকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, বলা হয়েছিল যাওয়ার জন্য। আমি বলেছি যে, আমাকে যদি আপনারা সেখানে উপস্থিত দেখতে চান তাহলে তো আপনারাই আমার উপস্থিতি নিশ্চিতের চেষ্টা করবেন। এরপর আমি অন্য পাশ থেকে কোনো উত্তর পাইনি।’ সিলেটের আরেক কৃতি ক্রিকেটার অলক কাপালি। বাংলাদেশের হয়ে ১৭ টেস্ট খেলা অলকও অনুপস্থিত। কারণ হিসেবে দেশ রূপান্তরকে বলেছেন অসুস্থতার কথা, ‘আমি সিলেটেই আছি, আমন্ত্রণও পেয়েছিলাম, যাওয়ার ইচ্ছাও ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে যাওয়া হয়নি, জ¦র এসেছে।’
সিলেট বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার ও ক্রিকেট সংগঠক আলী ওয়াসিকুজ্জামান চৌধুরি অনি প্রায় সর্বক্ষণই ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, সংক্ষিপ্ত হলেও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ ছিল বুলবুলের সিলেট সফর, ‘প্লেন থেকে নেমেই বুলবুল ভাই প্রথমে সিলেটসহ এ বিভাগের জেলাগুলোতে কী ধরনের ক্রিকেট খেলা হয়, সে বিষয়ে খোঁজ নেন। এরপর তিনি সিলেটের সাবেক ক্রিকেটার ও সংগঠক জায়েদ ভাই ও জাবু ভাইসহ আরও কয়েকজনের খোঁজ নেন। অসুস্থ জায়েদ ভাইকে দেখতে যেতে চাইলেও সময়ের অভাবে পারেননি, তবে ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। সারা দিন ধরে কথা হয়, কীভাবে তিনি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেট খেলাকে ছড়িয়ে দিতে চান। এ ছাড়া কীভাবে আরও বেশি দক্ষ কোচ তৈরি করা যায় এবং যেসব কোচ বর্তমানে কাজ করছেন, তাদের দক্ষতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়। মাঠে হেঁটে তিনি কিছু প্র্যাকটিস ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
বাচ্চাদের খেলা, পেসার হান্ট, ছবি আঁকা, শুভেচ্ছা বার্তা লেখার বোর্ড, খেলোয়াড়দের ছবি...আয়োজনে ছিল অনেক কিছুই। শুধু ছিলেন না সিলেট বিভাগ থেকে টেস্ট খেলা কোনো ক্রিকেটারই।