যে কারণে হামজা চৌধুরীদের কোচ হতে চান শন ডাইচ

রুড ফন নিস্টেলরয়কে আগামী জুলাইয়ের শুরুতেই বরখাস্ত করতে যাচ্ছে লেস্টার সিটি। নতুন কোচ নিয়োগ দিতে দেরি করার কোনো সুযোগ নেই—কারণ আগামী ৫ জুলাই থেকেই শুরু হচ্ছে দলের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচ। এই সময়টায় কোচিং স্টাফদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোই মৌসুমের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। তাই নতুন কোচ নিয়োগ না দিয়ে বা বর্তমান কোচকে পূর্ণ সমর্থন না দিয়ে মাঠে নামা একরকম আত্মঘাতী সিদ্ধান্তই হবে।

এমন এক সন্ধিক্ষণে শন ডাইচ নামটি উঠে এসেছে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার শীর্ষে। লেস্টারের মতো ক্লাবকে এখন দরকার এমন একজন, যিনি অভিজ্ঞ, স্থিরচিন্তাশীল এবং জানেন কীভাবে একটি দিশাহীন জাহাজকে নিরাপদ তীরে ভেড়াতে হয়।

বার্নলি ও এভারটনে কাটানো সময়েই শন ডাইচ নিজেকে প্রমাণ করেছেন একজন বাস্তববাদী, কঠোর শৃঙ্খলায় বিশ্বাসী এবং চাপে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে জানেন এমন কোচ হিসেবে। যদিও তার ৪-৪-২ ফরমেশন আর লং বল কৌশলকে অনেকেই ‘পুরনো ধাঁচের’ বলে সমালোচনা করেন, তবুও বাস্তবতার নিরিখে তিনি একজন সফল ‘ফায়ারফাইটার’ কোচ।

এভারটনে নিজের দায়িত্ব ও ভূমিকা প্রসঙ্গে ডাইচ যা বলেছিলেন, তা লেস্টারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে চমৎকারভাবে মিলে যায়, ‘আমি জানি, এখন সবাই ভাবে আমি যেন আগুন নেভানোর লোক। বড় পাইপ নিয়ে আগুন নেভাতে নামি। এভারটনে যখন গিয়েছিলাম, তখন জানতাম আমাকে কেন নেওয়া হয়েছে। আমার কাজ ছিল এক রকম সংকট মোকাবিলা করা। ওরা আমাকে বলেছিল, আমাদের প্রিমিয়ার লিগে টিকিয়ে রাখো, অর্থপ্রবাহ ঠিক থাকুক। সেই দায়িত্বই ছিল আমার। এই অভিজ্ঞতা লেস্টারের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। তারা আবার প্রিমিয়ার লিগে উঠতে চায়, আবার স্থিতিশীল হতে চায়। সেজন্য প্রয়োজন একজন বাস্তববাদী, ঠান্ডা মাথার ও অভিজ্ঞ নেতা। আমার সেই গুণ আছে।’

এই বক্তব্যেই যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ডাইচ জানেন কীভাবে চাপের মুখে দায়িত্ব নিতে হয় এবং লক্ষ্য পূরণে স্থির থাকতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে—ডাইচ কি লেস্টারের দায়িত্ব নিতে রাজি হবেন? তার সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য যেন সেই প্রশ্নেরই উত্তর দেয়, ‘অনেক কোচ বলেন, ঠিক ক্লাবটা পেতে হবে। আমি বলি—শুভকামনা রইল। ঠিক মালিক, ঠিক সমর্থক, ঠিক মাঠ, ঠিক অনুশীলন সুবিধা—সব একসাথে পাবে কোন দুনিয়ায়?’

ডাইচের এই কথায় ফুটে ওঠে বাস্তবতা—আর সেই বাস্তবতায় লেস্টারই হতে পারে তার পরবর্তী আদর্শ গন্তব্য। প্রশিক্ষণ সুবিধা, বিশ্বমানের স্টেডিয়াম, প্যাশনেট সমর্থক এবং যথেষ্ট বড় ক্লাব হিসেবে লেস্টারের নামই উঠে আসে।

ডাইচ লেস্টারে এলে হয়তো চোখ ধাঁধানো কিছু নয়—কিন্তু তিনি এনে দিতে পারেন শৃঙ্খলা, স্থিতি ও ফলাফল। ফুটবলে স্টাইল নয়, সারবত্তাই শেষ কথা। আর সেই সারবত্তা ফেরাতেই ‘ফায়ারফাইটার’ শন ডাইচ হতে পারেন লেস্টারের জন্য আদর্শ মানুষ।