জামালপুর

আমানতের টাকা ফেরত পেতে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও 

আমানতের টাকা ফেরত পেতে দ্বিতীয় দিনের মতো জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সমিতির গ্রাহকরা। মঙ্গলবার (২৪ জুন) বেলা ১০টা থেকে আমানতের টাকা ফেরত পেতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ ওই প্রাঙ্গণে থাকা অধিকাংশ সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে সোমবার (২৩ জুন) একই স্থানে সকাল থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগীরা।  উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে সমিতির গ্রাহকরা বক্তব্য দেন।

বক্তারা জানায়, মাদারগঞ্জের সমিতির মালিকরা ২০২২ সালের শেষের দিকে আত্মগোপনে চলে যায়। ২৩ টি সমবায় সমিতিতে ৩৫ হাজার গ্রাহক ছিলেন। তাদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সমিতিগুলো। সমবায় সমিতির মালিকেরা আত্মগোপনে যাওয়ার পর তারা একাধিক মামলা করেছেন। জেলা প্রশাসক, জেলা সমবায় কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। কিন্তু আমানতের টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। দ্বিতীয় দিনের মতো আবার উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সমিতির আমানতের টাকা ফেরতের জন্য একটি সহায়ক কমিটি করা হয়েছে। 

সহায়ক কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী বলেন, ‘দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন কর্মসূচি সকাল থেকে শুরু হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকেরা বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে আসছেন।’

জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘গ্রাহকের ৭৩০ কোটি টাকা সমবায় সমিতি রয়েছে। ২৩টি সমিতির মধ্যে আল আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধনুর সবচেয়ে বেশি টাকা। ছয়টি সমিতির কাছে জমা আছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। শুধু মাদারগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের একটি হিসাব করে দেখা গেছে, প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সমিতিগুলোয় আছে। এ ছাড়া ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদরের কয়েক হাজার গ্রাহক আছেন।

জেলা সমবায় কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, ‘গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। এ বিষয়টি সবাই জানে। আমাদের হাতে কোনো ক্ষমতা নেই।’

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আলোচনার টেবিলে এ সমস্যার সমাধান হোক। গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাক এটা আমরাও চাই।’