ফিরছেন মিরাজ আশঙ্কামুক্ত শান্ত

সাগরের তীর থেকে ব্যস্ত শহরের প্রাণকেন্দ্রে। গল থেকে কলম্বো। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠটা কলম্বোর অভিজাত সরণি সিনামন গার্ডেনসের একধারে, পাশেই শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের অফিস। একই তল্লাটে শ্রীলঙ্কার ফুটবল, অ্যাথলেটিকস-সহ অনেকগুলো খেলার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়। শহর বদলের সঙ্গে হাওয়াও বদল, দুই দলের একাদশেই কিছু আবশ্যিক পরিবর্তন। বাংলাদেশ দলের একাদশে ফিরছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। শ্রীলঙ্কার একাদশ থেকে বিদায় হয়ে গেছে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের। তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি সোনাল দিনুশা। চোটের কারণে থাকছেন না মিলান রতœায়েকেও।

গল টেস্টে ড্র করে বাংলাদেশ পা রেখেছে কলম্বোতে। দুই ম্যাচের সিরিজে এই ম্যাচটা যে জিতবে, সিরিজ তাদেরই। দেশের মাটিতে বাংলাদেশের সঙ্গে পয়েন্ট খোয়াতে চাইবে না শ্রীলঙ্কা। মেহেদী হাসান মিরাজের একাদশে ফেরাটাও তাদের কাছে কোনো হুমকি মনে হচ্ছে না, জানিয়েছেন অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, ‘মিরাজকে সেভাবে থ্রেট হিসেবে ভাবছি না। সে আমাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের মাটিতে নিজেদের হোম কন্ডিশনে সর্বশেষ কিছু টেস্টেও খেলেছে। সে দেশের হয়ে দারুণ খেলছে। খুব বড় হুমকি হিসেবে দেখছি না। তবে লড়াইটা ভালো হবে।’

বাংলাদেশ দলের কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য উচ্ছ্বসিত মিরাজকে একাদশে ফিরে পেয়ে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, ‘এই মুহূর্তে মিরাজ বিশ্বের দুই নম্বর অলরাউন্ডার (টেস্ট), তাই তো? তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ভূমিকাতেই দলে মূল্যবান অবদান রাখতে সক্ষম। তবে আমরা শুধুই তার ওপর ভরসা করছি না। প্রত্যেককেই তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বটা পালন করতে হবে, সে (মিরাজ) তার অংশটা করবে। একই সঙ্গে দলের বাকি সবাইকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

মিরাজকে একাদশে আনতে হলে বাদ পড়বেন কে? এমন প্রশ্নে সিমন্স জানিয়েছেন, ‘সেই সিদ্ধান্তটা আজ (মঙ্গলবার) পরে নেওয়া হবে। উইকেট দেখে সিদ্ধান্ত নেব। আমাদের প্রথমে কন্ডিশনটা বুঝতে হবে এরপর দলের ভারসাম্যটা ঠিক করতে হবে, তখন বুঝতে পারব তিনজন স্পিনার খেলাব নাকি তিন পেসার।’

গল টেস্টের বাংলাদেশ দলে মিরাজের বিকল্প হিসেবে ঢুকেছিলেন নাঈম হাসান। ৫ উইকেট নেওয়া নাঈমকে কী করে বাদ দেবেন সিমন্স, ‘কাজটা খুব কঠিন। গলে নাঈম ৫ উইকেট নিয়েছে। তাই তাকে বাদ দেওয়াটা কঠিন হবে।’ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয় দুই ইনিংসে করেছেন ০ এবং ৪। তাকে বাদ দিলে অন্যায় হবে মনে করেন সিমন্স, ‘দেখুন সে মাত্রই টেস্ট দলে ফিরেছে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো ব্যাট করেছিল। সে মাত্র একটা টেস্ট খেলল, মাত্র দুটো ইনিংস দিয়ে তাকে বিচার করাটা ঠিক হবে না। সে অনেক কঠোর পরিশ্রম করছে আর পরের সুযোগটা কাজে লাগাতে মুখিয়ে আছে।’

সিমন্সের কথায় তাহলে ধরে নেওয়া যায়, কোপটা যাচ্ছে জাকের আলী অনিকের ওপর দিয়েই। সাতে ব্যাট করেছেন জাকের, প্রথম ইনিংসে ৮ আর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ২ রান। তাকে নিয়ে একাদশে উইকেটরক্ষকের সংখ্যা ছিল ৪ আর বোলারও ছিল ৪ জন। এই ‘বৈষম্য’ দূর করার জন্যই জাকেরকে বসিয়ে মিরাজকে একাদশে আনার সম্ভাবনাই বেশি, বিশেষ করে সাতে ব্যাট করেই মিরাজ যখন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান।

মিরাজের সঙ্গে নাঈম এবং তাইজুল ইসলাম মিলে তিন স্পিনারে বোলিং আক্রমণটাও সাজাতে পারে বাংলাদেশ, গল টেস্টে একজন বোলারের অভাবটা ছিল স্পষ্ট। তিন পেসারের কথা যদি সিমন্স ভাবেন, সেক্ষেত্রে তার হাতে হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানার সঙ্গে খালেদ আহমেদ অথবা ইবাদত হোসেন এর মধ্য থেকে কাউকে নিতে হবে। তবে যে মাঠে শীর্ষ দুই উইকেট শিকারির নাম মুত্তিয়া মুরালিধরন এবং রঙ্গনা হেরাথ, সেখানে নিশ্চয়ই একাদশে তিনজন পেসার নেওয়ার দুঃসাহস করবে না বাংলাদেশ!

সোমবার অনুশীলনে আঙুলে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গলেও ব্যাট করেছিলেন আঙুলে ব্যথা নিয়েই। সিমন্স জানালেন, ওটা বিশেষ কিছু নয়, ‘সে ভালো আছে, স্রেফ আঙুলে একটু লেগেছে। ওটা ও টেপ পেঁচিয়ে নেবে।’

ড্র করে কলম্বোতে আসায় মনোবলটা তুঙ্গে আছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের, তাই আত্মবিশ্বাসের পাল্লাটা ভারী; কোচ বলছেন এমনটাই, ‘শুরু থেকেই দলের বিশ্বাস অনেক উঁচু। ছেলেরা ঢাকা থেকেই তাদের কাজ শুরু করেছিল যাতে এখানে আমরা দ্রুত কাজে নেমে পড়তে পারি। গলে আমরা ভালো একটা ফল পেয়েছি, বিশ্রামের জন্য তিনটা দিন পেয়েছি। আমাদের মনোবল তুঙ্গে।’

কলম্বোর এসএসসি মাঠে বাংলাদেশ খেলেছে ৩ টেস্ট, হার জুটেছে তিনবারই। মুরালিধরনের ঘূর্ণিতে নাকাল হওয়ার ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি মোহাম্মদ আশরাফুলের সেই রেকর্ডভাঙা সেঞ্চুরির কৃতিত্বও আছে। ২০০৭ সালের পর এই মাঠে আর খেলেনি বাংলাদেশ। ১৮ বছর পর এই ভেন্যুতে ফের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। কে হবেন বাংলাদেশের ‘আশরাফুল’, শ্রীলঙ্কার ‘মুরালিধরন’ই বা হবেন কে? সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার শুরু আজ থেকে।