ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। গতকাল বুধবার ৩০ কর্মদিবস পূর্ণ হলেও বহুল প্রতীক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ না হওয়ায় তারা এ কর্মসূচি ঘোষণা করে। মিছিলটি আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় শাহবাগ চত্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ১০ মে একটি রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সেই সময় সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে জানিয়ে দেন, আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যেই ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও এখনও ঘোষণাটি প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে একটি লিখিত বিবৃতিতে ‘জুলাই ঐক্য’ বলেছে, ‘এই ঘোষণাপত্র না আসা মানে প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট ভঙ্গ এবং তা ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা। এ ঘটনা সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও আন্দোলনকারী কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অপরাধীদের বিচার না হওয়াকে তারা সরকারের নীরব সমর্থন বলে মনে করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়, এটি অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধের প্রতীক। সেই প্রতিরোধের স্মারক হিসেবে ঘোষিত সনদ প্রকাশ না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।’
জুলাই ঐক্য স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সরকার যদি এই ঘোষণাপত্র প্রকাশে বিলম্ব করে, তবে তার পরিণতির দায় সরকারকেই নিতে হবে। তারা জানিয়েছে, দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে প্রস্তুত তারা।
এ অবস্থায় আজ রাত ৮টায় শাহবাগে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়ে ‘জুলাই ঐক্য’ সকল প্রতিবাদী ছাত্র ও নাগরিককে সেখানে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঘোষিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও সনদ প্রকাশ না হওয়ায় আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ প্রকট হয়েছে। এ ক্ষোভ পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।