রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভবনের প্রবেশপথ ঘিরে নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ভবনের প্রধান দু'টি ফটকে সেনাবাহিনীর সদস্যসহ অন্যান্য বাহিনীর উপস্থিতি দেখা যায়। এরপর থেকে ভবনে কারও প্রবেশ কিংবা বের হওয়া কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এনবিআরের ভেতরে যাঁরা রয়েছেন, কিংবা যাঁরা বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন—কেউ-ই যাতায়াত করতে পারছেন না। আন্দোলন ঘিরে এই অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। চলমান বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এনবিআরের চেয়ারম্যানকে অপসারণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোগত সংস্কার দাবি করে বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবারও রাজস্ব ভবনে তাঁদের উপস্থিতি ছিল এবং তাঁরা কলমবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন।
আন্দোলনকারীরা বলছেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ঠেকাতে ভবনের চারপাশ কার্যত ঘিরে ফেলা হয়েছে। গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে, কারও প্রবেশাধিকার নেই। এটি ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’ ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার মধ্যে দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে শনিবার (২৮ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এনবিআর কার্যক্রম বন্ধ রাখার (শাটডাউন) ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগেও, গত মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেয় ঐক্য পরিষদ। সরকারের পক্ষ থেকে ১২ মে এনবিআরকে দুই ভাগে বিভক্ত করার একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। তার পরপরই ২৬ মে পর্যন্ত কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তারা আন্দোলন চালিয়ে যান।
পরে ২৫ মে রাতে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এনবিআর বিলুপ্ত করা হচ্ছে না বরং একে ‘স্বাধীন ও বিশেষায়িত সংস্থা’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরপর আন্দোলন কিছুটা থেমে গেলেও এনবিআরের বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয় ঐক্য পরিষদ।