ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কারণে আলোচনায় থাকা উত্তর কোরিয়া এখন নজর দিয়েছে দেশটির পর্যটন খাতে। সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন বৃহস্পতিবার নতুন একটি পর্যটন রিসোর্ট উদ্বোধন করেছেন। এই খাত থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি নিয়েও আশাবাদী কিম।
উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলে নির্মিত এই সী বীচ রিসোর্টের নাম উনসান কালমা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রিসোর্টটি ১ জুলাই থেকে দেশীয় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর নির্মাণ কাজ ছয় বছর আগে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তবে কবে নাগাদ বিদেশিদের জন্য এটি উন্মুক্ত হবে তা এখনো জানা যায়নি।
উনসান শহরটি কিম জং উনের শৈশবকাল কাটানো জায়গা, যেখানে উত্তর কোরিয়ার অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাদের ব্যক্তিগত ভিলা গড়ে তুলেছেন। এক সময় এই শহরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও চালানো হতো। বর্তমানে কিম এই শহরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিসিএনএ দাবি করেছে, এই রিসোর্টে একসঙ্গে ২০ হাজার পর্যটক অবস্থান করতে পারবেন। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতজুড়ে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল ও ওয়াটার পার্ক থাকবে—যদিও এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
উত্তর কোরিয়া কয়েক দশক ধরে পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে এবং বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর একটি। দেশটি বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করে সেনাবাহিনী, স্মারক ও নেতার পরিবারকেন্দ্রিক প্রোপাগান্ডা নির্মাণে।
কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, রিসোর্টটি অতিরিক্ত রাজস্ব আয়ের সহজ উপায় হতে পারে। যদিও বিদেশি পর্যটকদের প্রবেশাধিকার রয়েছে, তবে বেশিরভাগ পর্যটকই চীন ও রাশিয়ার। এই দুই দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
করোনা মহামারির সময় উত্তর কোরিয়া তার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। পরে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে সীমিত আকারে সীমান্ত খুলতে শুরু করে। এর পর থেকে দেশটিতে রুশ পর্যটকদের আগমন ঘটে।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিছু পশ্চিমা দেশের পর্যটক (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়া) চীন হয়ে দেশটিতে প্রবেশ করলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবার হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। তবে তারা এর কোনো কারণ জানায়নি।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রিসোর্টটি প্রাথমিকভাবে রুশ পর্যটকদের জন্য চালু করা হতে পারে, কারণ তারা এখন উত্তর কোরিয়ার নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রবেশের একমাত্র বিদেশি নাগরিক।
রিসোর্টটি এমন উদ্বোধন করা হয়েছে যখন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ় হচ্ছে। পিয়ংইয়ংও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা সহায়তা দিচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার, পাঁচ বছর পর আবারও মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।