মূলনা ইউনিয়ন

বরখাস্ত হয়েও চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসে সই করেন কাগজপত্রে 

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আ. জলিল মাদবর সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পরও নিয়মিত অফিস করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন খাতের চেক ও কাগজপত্রে স্বাক্ষর করে যাচ্ছেন দেদারসে। কারও কথা না শুনে বলপ্রয়োগ করে যাচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে পরিষদের ইউপি সদস্য ও সচিবের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বরখাস্ত হওয়ার পরও যদি ওই চেয়ারম্যান অফিস পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেন করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ মে একটি চেক জালিয়াতি মামলায় মূলনা ইউপি চেয়ারম্যান জলিল মাদবরকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। এ কারণে ১৯ জুন তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগ ও আদালত তাকে এখনও পুনর্বহাল করেননি বলে জানায় পরিষদ কর্তৃপক্ষ।

তবুও তিনি নিয়মিত অফিস করে যাচ্ছেন বলে জানান পরিষদের সচিব ও ইউপি সদস্যরা। বরখাস্তর পর গত এক বছরে তিনি টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এক পার্সেন্ট, হাটবাজার ও উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের প্রায় ৪০ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া মশা মারার ফগার মেশিনের ১ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন খাতের টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মূলনা ইউনিয়নের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন ভুলু বলেন, এক বছর হয়ে গেছে মূলনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরখাস্ত হয়েছে। পরে শুনি তিনি পরিষদে যোগদান করেছেন। আমরা জিজ্ঞেস করেছিলাম আপনি কিভাবে আবার পরিষদে বসার অনুমতি পেলেন। চেয়ারম্যান বলেছেন হাইকোর্টের অনুমতি পেয়েছি। আমরা দেখেছি তিনি পরিষদে বসে অফিস পরিচালনা করছেন। স্বাক্ষরও করছেন। ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন খাতে সরকারের বরাদ্দ আসে, সেগুলো কিভাবে কি করছে আমাদের জানা নেই। চেয়ারম্যান যদি কোন জালিয়াতি করে থাকে তাহলে তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লিপি আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান বুঝতেই চায় না বরখাস্ত হয়েছেন। বরখাস্তর পরও তিনি অফিস করে যাচ্ছেন। আগের ইউএনও মহোদয় তাকে মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন। চেয়ারম্যান বলেন ইউএনও মহোদয় যদি আমাকে কিছু না বলে, তাহলে তোমার সমস্যা কি? আমি চেয়ারম্যানকে বলেছি যে, আপনি চেক ও কাগজপত্রে স্বাক্ষর কইরেন না। কিন্তু সে বলে আমি অফিস প্রধান, এ কথা বলে স্বাক্ষর করেছেন। এক পার্সেন্ট ১৩ লাখ টাকা, উন্নয়ন সহায়তা তহবিল সাড়ে ৪লাখ, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, হাটবাজার মিলে ৪০ লাখ টাকার চেকে স্বাক্ষর করেছেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন সেই কাগজ আছে, পুনর্বহালের জন্য আবেদন করেছেন সে কাগজও আছে। কিন্তু পুনর্বহালের কাগজ তিনি এখনও আমাকে দেখাননি, আমরা পাইনি।

প্যানেল চেয়ারম্যান ওহেদুজ্জামান শিবলু বলেন, চেয়ারম্যান বরখাস্ত হয়েছেন। কিন্তু পুনর্বহালের কাগজ আমরা পাইনি। আমি তাকে বলেছি আপনি পরিষদে এসে চেক ও কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন এটা কি ঠিক! পরে আমি ইউএনও অফিসে বিষয়টি জানতে যাই, যেয়ে শুনি ইউএনও নাকি চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে বসতে বলেছে, কিন্তু লিখিত কোনো অনুমতি দেননি। 

তবে, অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আ. জলিল মাদবর বলেন, ইটভাটায় লেনদেনের বিষয়ে একটি মামলা হয় আমার বিরুদ্ধে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার হই। এ কারণে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হই। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখনো পুনর্বহাল করেনি। তবে হাইকোর্ট থেকে অনুমতি পেয়েছি। এছাড়া শরীয়তপুর থেকে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসের কাছে আমাকে মৌখিক বসার দায়িত্ব দিয়েছিল। তবে লিখিত কোনো পত্র পাইনি।

মৌখিক অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, মূলনা ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত হিসেবে আছেন। মৌখিকভাবে অনুমতি কীভাবে দেয়। মৌখিক অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, আমরা এ বিষয়ে মূলনা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করবো। বরখাস্ত হওয়ার পরও যদি ওই চেয়ারম্যান অফিস পরিচালনা ও আর্থিক লেনদেন করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।