শান্তকে নেতৃত্বে রাখতে না পারা 'বোর্ডের ব্যর্থতা'

দায়িত্বের শুরুটা ছিল সম্ভাবনায় ভরা, শেষটা হলো হতাশায়। আড়াই বছরের নেতৃত্ব অধ্যায় শেষ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ভারতের মাটিতে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড সিরিজ দিয়ে অধিনায়কত্বের শুরু, এরপর একে একে তিন ফরম্যাটেই পূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের যবনিকা ঘটল আজ, যখন শান্ত জানিয়ে দিলেন—আর টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে দেখা যাবে না তাকে।

গুঞ্জনটা গল থেকেই শুরু হয়েছিল। ওয়ানডের নেতৃত্ব থেকে আলোচনা না করেই সরিয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেননি শান্ত। তাই অনেকটা অভিমানেই নেতৃত্ব ছেড়েছেন তিনি। আর তার দায়িত্ব ছাড়া বিষয়টিকে বোর্ডের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিসিবির সাবেক এক পরিচালক।

বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের সহ-অধিনায়ক হিসেবে গেলেও ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নেতৃত্ব দিতে হয় শান্তকে। এরপরই ধীরে ধীরে তিন ফরম্যাটেই হয়ে ওঠেন দলের প্রধান নেতা। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি—এসব বিবেচনায় বিসিবি আস্থা রেখেছিল তার কাঁধে। শুরুর সাফল্যও বাড়িয়েছিল সেই আস্থার ভরসা।

১৪ টেস্টে তার অধিনায়কত্বে জয় এসেছে ৪টিতে, হার ৯ ম্যাচে। ড্র মাত্র ১। সব মিলিয়ে শান্তর অধীনে বাংলাদেশ খেলেছে ৫১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, জিতেছে ১৮টিতে, হেরেছে ৩১টিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র ও ফলবিহীন।

তবে গত কয়েক মাসে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কা সিরিজের আগে ওয়ানডে নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়া হয় তার কাছ থেকে। টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বও আগে থেকেই ছেড়ে দেন স্বেচ্ছায়। এবার এল টেস্ট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা

সংবাদ সম্মেলনের প্রায় শেষে অনেকটা নাটকীয়ভাবে ঘোষণা দিয়ে শান্ত বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। এটা সম্পূর্ণ দলের ভালোর জন্যই নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, তিনজন আলাদা অধিনায়ক দলের জন্য বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। আমি চাই না কেউ ভাবুক, এটা রাগ বা আবেগ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত।’

শান্তর নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়টি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বিসিবির সাবেক এক পরিচালক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পরিচালক রূপান্তরকে বলেন, ‘দায়িত্বশীল যারা ছিলেন তাদের অবশ্যই উচিৎ ছিল শান্তকে বোঝানো। কিন্তু তারা সেটা পারেননি। বোর্ডের দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে তিন ফরম্যাটে আলাদা অধিনায়ক রাখা যাবে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া-ভারতের মতো ক্রিকেটারদের গভীরতা আমাদের নেই। তাই এখনই তিন ফরম্যাটে আলাদা অধিনায়ক রাখা বোর্ডের ভুল ছিল।’

শান্তর বিদায়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে সামনে কে? কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক? এবং, ক্রিকেটীয় নেতৃত্বে কি আরও অস্থিরতা তৈরি হতে চলেছে? এই মুহূর্তে, একটাই সত্য—আড়াই বছরে তিন ফরম্যাটেই পূর্ণকালীন অধিনায়ক শান্ত এখন দায়িত্বশূন্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট আবারো পড়েছে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের চক্রে।