আমেরিকান-ইসরায়েলি ত্রাণকেন্দ্রে বিতরণ করা ময়দার বস্তায় অক্সিকোডন নামে আফিমজাত ট্যাবলেট পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে গাজা সরকারের মিডিয়া অফিস।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে (জিএইচএফ) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে জিএইচএফ আগে থেকেই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের কারণে সমালোচিত ও বিতর্কিত।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে গাজা কর্তৃপক্ষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা এ পর্যন্ত চারজন নাগরিকের সাক্ষ্য নিয়েছি যারা ময়দার বস্তার ভেতরে এই বড়িগুলো খুঁজে পেয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, নেশাজাতীয় ওষুধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
বুধবার ১৫টি মানবাধিকার ও আইনি সংগঠন জিএইচএফের কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানায়। তাদের অভিযোগ, সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার কার্যক্রমকে দুর্বল করেছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিবেশ সৃষ্টি করছে যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গণহত্যার শামিল।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক মাসে জিএইচএফ পরিচালিত সহায়তা কেন্দ্রে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে অন্তত ৫১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অক্সিকোডন একটি আফিমজাত ওষুধ যা সাধারণত ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ও তীব্র ব্যথা উপশমে ব্যবহৃত হয়।
এই ওষুধটি অত্যন্ত নেশাজনক এবং এর মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকতে পারে, যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট এবং বিভ্রম (হ্যালুসিনেশন) অন্যতম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু পোস্টে ময়দার বস্তায় পাওয়া নেশাজাতীয় ট্যাবলেটগুলোর ছবি ভাইরাল হওয়ার পর বিবৃতি দিয়েছে গাজার মিডিয়া অফিস।
ফিলিস্তিনি ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ এই ঘটনাকে ‘গণহত্যার সবচেয়ে নিকৃষ্ট রূপ’ বলে আখ্যা দেন।
গাজার ফিলিস্তিনি চিকিৎসক খালিল মাজেন আবু নাদা ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, এই ধরনের ওষুধ ‘আমাদের সামাজিক সচেতনতা ধ্বংসের একটি অস্ত্র।’
গাজার মিডিয়া অফিস বলেছে, তারা ইসরায়েলকে এই ঘৃণ্য আসক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি সমাজ কাঠামোকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মনে করে।
তারা আরও অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবরোধের সুযোগ নিয়ে এইসব পদার্থকে সহায়তার নামে পাচার করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিচালিত সাহায্যকেন্দ্রগুলোকে ‘মৃত্যুকূপ’ আখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ এক প্রতিবেদনে জানায়, জিএইচএফের সহায়তা কেন্দ্রে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলি সৈন্যরা।