ফুটবলের ক্যালেন্ডার যেন আর বিশ্রাম চেনে না! ক্লাব মৌসুম শেষ হতে না হতেই জাতীয় দলের টুর্নামেন্ট, এরপর আবার শুরু ক্লাব বিশ্বকাপ। আর এই টানটান সূচির মাঝেই শারীরিক ও মানসিক ধকল নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা।
নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির আগেই ক্লাব বিশ্বকাপ খেলতে নামা নিয়ে গার্দিওলার ভাষায়, “হয়তো নভেম্বর, ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বিপর্যয় নেমে আসবে। হয়তো আমরা তখন ক্লান্ত-অবসন্ন থাকব এবং ক্লাব বিশ্বকাপ আমাদের ধ্বংস করে দেবে... আমি ঠিক জানি না, কারণ এই প্রতিযোগিতা তো আমরা জীবনে প্রথমবার খেলছি।”
ম্যানসিটি ২৫ মে শেষ করে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম, আর মাত্র তিন সপ্তাহ পরে ১৮ জুনেই নামতে হয় ক্লাব বিশ্বকাপে। (বাংলাদেশ সময়) ১ জুলাই অরল্যান্ডোতে আল-হিলালের বিপক্ষে খেলবে সিটি। যদি ফাইনালে ওঠে, তবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হবে গুয়ার্দিওলার দলকে। এরপর নতুন মৌসুম শুরুর আগে মাত্র এক মাস সময়!
এই ক্লান্তির মাঝেও গার্দিওলা এক ধরনের বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করছেন, আবার সমালোচকদের প্রতি ছুড়ছেন খোঁচাও। লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ ক্লাব বিশ্বকাপকে বলেছিলেন "ফুটবলের সবচেয়ে জঘন্য আইডিয়া"। সে প্রসঙ্গে গার্দিওলা বললেন, “ইয়ুর্গেনের মন্তব্য আমাকে বিস্মিত করেনি। আমি তাকে বুঝি, শ্রদ্ধা করি। তবে অনেক ক্লাবই এই টুর্নামেন্ট নিয়ে অভিযোগ করে, কারণ তারা এখানে আসতে পারেনি। খেলতে পারলে তাদেরও ভালো লাগত।”
গার্দিওলা মনে করেন, সব ম্যানেজারই চান নতুন মৌসুমের আগে ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সময় দিতে। কিন্তু টুর্নামেন্টটা যখন আছে, তখন সেটিকে স্বাগত জানানো ছাড়া উপায় নেই।
“আমরা তো ম্যানেজার, টুর্নামেন্ট আয়োজন করি না। কিন্তু যখন এখানে খেলতে এসেছি, অবশ্যই আমরা গর্বিত। ধারাবাহিক সাফল্যের কারণেই আমরা এই জায়গায় এসেছি। এখন এখানে এসেছি যখন, সম্ভাব্য সেরা ফলাফল আনতেই হবে।”
প্রথমবার ৩২ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্লাব বিশ্বকাপ। এখনই হয়তো ক্লান্তি টের পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু গুয়ার্দিওলার আশঙ্কা—আগামী মৌসুমের মাঝপথেই হয়তো তার প্রভাব প্রকট হয়ে উঠবে।