মেজর লিগ ক্রিকেটে টেক্সাস সুপার কিংসের দক্ষিণ আফ্রিকান তারকাদের ঔজ্জ্বল্যে ম্লান হতে হলো এমআই নিউইয়র্ককে। নিউইয়র্ককে ৩৯ রানে হারিয়ে প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে টেক্সাস। বুড়ো বয়সে এসে ১০ দিনের ব্যবধানে ফাফ ডু প্লেসি তার মৌসুমের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন। ডনোভান ফেরেইরা ইনিংসের শেষদিকে ২০ বলে ৫৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে দলের স্কোর নিয়ে যান ২২৩ রানে। সেই রান তাড়ায় নামা নিউইয়র্ককে ঘুর্ণিতে খাবি খাওয়ান আকিল হোসেইন। ১৮৪ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচ জয়ের কাজটি সম্পন্ন করেন তিনি। তাতে কাইরন পোলার্ডের ৩৯ বলে ৭০ রানের ইনিংসও শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়।
এদিন সেঞ্চুরি করে তিনটি রেকর্ড গড়েন ডু প্লেসি, যার দুটি আবার বিশ্বরেকর্ড। ফিফটি করার পর ডু প্লেসি ১২ বলে ১১ রান করেছিলেন। কিন্তু লিন্ডের শেষ ওভারে দুটি ছক্কা মেরে আবার ম্যাচের গতি ঘুরিয়ে দেন। তখন মারকাস স্টয়নিস আউট হয়ে গেলেও ডু প্লেসি ও ফেরেইরার মাথায় ছিল ভিন্ন পরিকল্পনা। পোলার্ডকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মারেন ডু প্লেসি, আর ফেরেইরা তাকে ড্রাইভ করে মারেন দুটি চার। এরপর বোল্টকে একটি বাউন্ডারি মারেন ডু প্লেসি, আর তাতেই শুরু হয় এক ঝড়ো শেষ তিন ওভার, যেখানে টেক্সাস তোলে ৫৬ রান।
১৮তম ওভারে ফেরেইরা আদিল রশিদকে একাই মারেন ২০ রান। এরপর ১৯তম ওভারে বোল্টকে স্কয়ার লেগে সুইভেল পুল করে ডু প্লেসি পূর্ণ করেন তার সেঞ্চুরি। এ নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক সর্বোচ্চ ৮টি সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। ৪০ এর বেশি বয়সে একাধিক সেঞ্চুরি করা একমাত্র ব্যাটসম্যান তিনি। সঙ্গে মেজর লিগ ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বাধিক সেঞ্চুরির কীর্তিও নিজের করে নেন ডু প্লেসি। এই ইনিংসে খেলেন ৫৩ বলে অপরাজিত ১০৩ রানের ইনিংস, যেখানে চার মাত্র ৫টি আর ছক্কা ৯টি।
১৯তম ওভারটি থেকে আসে মাত্র ৮ রান। তবে শেষ ওভার ছিল একেবারেই রোমাঞ্চকর। ফেরেইরা প্রথম দুই বলেই মারেন ছক্কা। এরপর উগারকার টানা পাঁচটি ওয়াইড দিয়ে ছোঁন শার্দুল ঠাকুরের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড, টি২০-তে সবচেয়ে বেশি টানা ওয়াইড করার। ওভারের তৃতীয় বৈধ বলেও ছক্কা মারেন ফেরেইরা এবং তিনি পঞ্চাশ পূর্ণ করেন এমএলসি ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম সময়ে।
রান তাড়ায় পোলার্ডের দেরিতে আসা আক্রমণ নিউইয়র্কের কোনো উপকারে আসেনি। যদিও তিনি ১৪তম ওভারে নূর আহমদকে টানা তিনটি ছক্কা মেরে আশা জাগান। এরপর মুক্কামালার একটি ভুল থ্রোয়ের কারণে একটি চারও আসে। পরের তিন ওভারে নিউইয়র্ক তোলে ৩৭ রান, কিন্তু লং-অফে ফেরেইরার অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে ভাঙে পোলার্ড ও ব্রেসওয়েলের ৮৮ রানের জুটি। শেষের আগের ওভারে নান্দ্রে বার্গার পোলার্ডকে বোল্ড করে দেন, ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে তারা। ড্র প্লেসির সেঞ্চুরি সত্ত্বেও মেডনেসহ ১৫ রানে ৩ শিকার ধরা আকিল হয়েছেন ম্যাচসেরা। টেক্সাস এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ দুই দলের থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও নিজেদের প্লে-অফের জায়গা নিশ্চিত করেছে।