সমন্বয়ক পরিচয়ে মুয়াজ্জিনকে মারধর, থানায় অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সমন্বয়ক পরিচয়ে স্থানীয় একটি মসজিদের মুয়াজ্জিনকে বেধড়ক মারধর করে সাদমান সাকিব অর্ক (২৩) নামে এক যুবক। পরে স্থানীয় মুসল্লীরা ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ভুক্তভোগীর বাড়ি নোয়াখালীর কমলনগর থানার চরমার্টিন গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত অর্ক উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানী উত্তরপাড়ার মো. আব্দুল খালেকের ছেলে। অর্ক নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর এলাকার সমন্বয়ক দাবি করেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনাটি ঘটেছে একই গ্রামের উত্তরপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের ভেতরে। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন ইমরান হোসাইন কথিত সমন্বয়ক সাদমান সাকিব অর্ক ও তার পিতা আব্দুল খালেকের নামে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া যুবক ও তার পিতা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত (১৮ জুন) বুধবার উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানী উত্তরপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ইমরান হোসাইন স্থানীয় একজন মুসল্লির সঙ্গে খাবার আনার বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় আব্দুল খালেক নামে অপর একজন মুসল্লি বিনা কারণে তাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। গালমন্দের কারণ জানতে চাইলে আব্দুল খালেক মুয়াজ্জিনের ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করতে উদ্ধত হন। পরে মুসল্লিদের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় আব্দুল খালেক মুয়াজ্জিনকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজ বাড়ির দিকে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে রাতেই ভুক্তভোগী মুয়াজ্জিন মসজিদ কমিটির সঙ্গে আলাপ করেন এবং তাকে হেনস্থার বিষয়ে বিচার প্রার্থী হন। সেদিনই মসজিদ কমিটির সদস্যসহ মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে বসে মুয়াজ্জিনের সঙ্গে অনাকাঙ্খিত ঘটনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছিলেন। মসজিদে বিচার হচ্ছে এমন খবর শুনে বুধবার রাত অনুমান সাড়ে নয়টায় আব্দুল খালেক ও তার ছেলে সাদমান সাকিব অর্ক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পুনরায় মুয়াজ্জিনকে গালমন্দ করতে থাকেন। একপর্যায়ে অর্ক ও তার বাবা মুসল্লিদের সামনেই মুয়াজ্জিনকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে থাকেন।

পরে স্থানীয়ভাবে একটি দায়সারা শালিসের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শালিসে অভিযুক্তরা অনুপস্থিত থাকায় মসজিদ কমিটি মুয়াজ্জিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টির সমাধান করেছে বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে নিজেকে ঢাকার সমন্বয়ক দাবি করা অভিযুক্ত সাদমান সাকিব অর্ক বিভিন্ন ফেইক আইডি ব্যবহার করে স্থানীয় কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির নামে ফেসবুকে বিভিন্ন কুৎসা রটিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করাসহ সাধারণ মানুষকে ব্যাপক হয়রানি করে আসছেন। এলাকাবাসী তার এমন কর্মকাণ্ডে বেশ অসন্তুষ্ট।

বায়তুন নূর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার বলেন, সামান্য একটি বিষয় নিয়ে মুয়াজ্জিনকে মারধর করার ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের জরিমানা করা হয়েছে। মুয়াজ্জিন স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।

জাতীয় ইমাম-খতিব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, মুফতি শামীম মজুমদার জানান, মুয়াজ্জিনকে মারধর ও হেনস্থার বিষয়ে জানতে পেরেছি। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর সামাজিকভাবে বিষয়টির মীমাংসা করা হলেও বিবাদী পক্ষ ওই শালিসে উপস্থিত ছিল না। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়ার দরকার ছিল। আমরা ব্যাপারটি নিয়ে অসন্তুষ্ট।

চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল কালাম বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। মসজিদ কমিটি ওই মুয়াজ্জিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে দিয়েছে। বর্তমানে তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলে জেনেছি।