চুরির জন্য সাবমেরিন ক্যাবল কাটার চেষ্টা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালীর ৪ ইউনিয়ন

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরির উদ্দেশ্যে নদীর তলদেশের সাবমেরিন ক্যাবল কেটেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে উপজেলায়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে তাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবেলের পুনঃসংযোগ স্থাপনের কাজ চলমান আছে।

ভোলা থেকে মুজিবনগর হয়ে বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আসতো রাঙ্গাবালীর উপকেন্দ্রে, সেখান থেকে সরবরাহ হতো বিদ্যুৎ। শনিবার রাতে অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে সাবমেরিন ক্যাবল চুরির জন্য দুইটি ফেইজ কেটে ফেলেছে দুষ্কৃতকারীরা। ফলে রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এতে বিদ্যুৎবিহীন হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

রাঙ্গাবালীর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় মানুষ। অন্ধকারে রাত কাটাচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই। দ্রুত মেরামত না হলে সংকট আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু সাবমেরিন ক্যাবেল চুরি নয়, বরং জনজীবন বিপর্যয়ের জন্য দায়ী একটি নাশকতা। তারা দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেনারেল ম্যানেজার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) আবুল কাশেম জানান, ঘটনার পর বিদ্যুৎ বিভাগের একটি কারিগরি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্যাবল কর্তনের প্রমাণ পায়। মেরামতের কাজ শুরু হলেও বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি এমারৎ হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে যায় দুইজন। গলাচিপার জসিম মৃধা এবং রাঙ্গাবালীর জুয়েল মৃধা। জানা যায়, ভোলা থেকে ছয়জনের একটি চক্র এসে তাদের ট্রলার ভাড়া করে ক্যাবল কাটতে নামে।