ভূমিহীন দিনমজুর থেকে হাজার কোটির মালিক ভালুকার শহীদুল ইসলাম!

ছিলেন আওয়ামী লীগ আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী। এখন বিএনপির ব্যানার ব্যবহার করে ফ্যাসিস্ট দলটির নেতাকর্মীদের পূনর্বাসনসহ একের পর এক অপকর্ম করে যাচ্ছেন। এরা হলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম ও তার ছেলে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মামুন। তাদের অনৈতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সর্বনাশ মনে করে নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তারা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বাবা ছেলেকে স্থায়ীভাবে দল থেকে বহিষ্কারের দাবিও তুলছেন।

জানা গেছে, ভূমিহীন দিনমজুর থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলাম ওরফে বাউন্ডারি শহীদ। কয়েক দশক আগেও ভূমিহীন একজন দিনমজুর ছিলেন গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম। জন্মসূত্রে গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা হলেও ভালুকার হবিরবাড়ি মৌজায় স্থানান্তরিত হয়ে এসে স্থানীয় বনবিভাগের নার্সারিতে দৈনিক ৫ কেজি গম মজুরিতে কাজ নিয়েছিলেন তিনি। অথচ সেই ভূমিহীন দিনমজুর শহীদ এখন হাজার কোটি টাকার মালিক, প্রথমে বিএনপি পরে আওয়ামী লীগ তারপর আবারও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। একজন সাধারণ দিনমজুর ভূমিহীন থেকে বনবিভাগের শত শত একর জমি জবরদখল করে গড়ে তুলেছেন শিল্প কারখানা, অ্যামিউজমেন্ট পার্কের মতো শত কোটি টাকার প্রতিষ্ঠান। পরিবারের সবার জন্যই কিনেছেন একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি, নামে বেনামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশাল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা শহীদের নামই পরিবর্তন হয়ে হয়ে গিয়েছে বাউন্ডারি শহীদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৩-১৯৯৪ সালে প্রথম মামলার আসামি হন তিনি। ২০০০ সালে ভালুকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকাভুক্ত ছিলেন তিনি। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি, বনের জায়গা দখলের ডজন ডজন মামলার আসামীও হয়েছেন তিনি, এমনকি তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার পর্যন্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু বিশাল সম্পদের পাহাড় বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়, তিনি হাত পাকিয়েছেন রাজনীতির মাঠেও। ভোল পাল্টালেও বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির প্রভাবশালী যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক হলেও উপজেলা বিএনপির একটি গ্রুপের নিয়ন্ত্রক মনে করা হয় তাকে। যদিও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী এমপি, মন্ত্রী, আমলা ও নেতাদের সাথে তার বরাবরই ছিল দহরম মহরম সখ্যতা।

৫ আগস্টে সরকার পতনের পর ভালুকার সকল ফ্যাক্টরির ওয়েস্টেজ ম্যানেজমেন্টসহ স্থানীয় সকল ব্যবসা বাণিজ্য দখলের নায়কও বলা হয় তাকে। যেগুলো দখল করতে পারেননি সেগুলোও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সমন্বয় করে গোপনে পরিচালনা করছেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীরা যেমন তার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন তেমনি বাদ যাননি সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারী কর্মকর্তারাও। কয়েক দশকে ভালুকার মূর্তিমান আতংক বনে যাওয়া বাউন্ডারি শহীদ এখন বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এমন কোনও অপকর্ম না যা করছেন না।

সাম্প্রতিক সময়ে জেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটি হওয়ার পর ভালুকা উপজেলা বিএনপির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শুরুর আগমুহূর্তে ভেন্যুর ঠিক সামনে ত্যাগী বিএনপি নেতাকর্মীর ব্যানারে বাউন্ডারি শহীদের বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন করে হাজারো ত্যাগী নেতাকর্মী।

পিতাপুত্রের বিষয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান মামুন বলেন, সব অভিযোগই মিথ্যা। তাদের জনপ্রিয়তা ভালুকাতে সবচেয়ে বেশি। এজন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার এবং পিতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে যাচ্ছে।