সংবাদ সম্মেলনটি ছিল গত পরশু শেষ হওয়া বাফুফের নেক্সট গ্লোবাল স্টার কর্মসূচিটিকে ঘিরে। তবে বাফুফে ভবনে নতুন খবরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গতকালের এই সংবাদ সম্মেলন। আরও ৬ মাসের জন্য বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে থেকে যাচ্ছেন সাইফুল বারী টিটু। এর মধ্য দিয়ে লোডভিক ডি ক্রুইফকে নিয়ে জন্ম নেওয়া জল্পনার আপাতত অবসান হলো।
বাফুফে নেক্সট গ্লোবাল স্টার কর্মসূচিটি শুরু হয় মূলত ২৭ জুন ওরিয়েন্টেশনের মধ্য দিয়ে। পরের দুই দিন জাতীয় স্টেডিয়ামে সকাল-বিকেল দুই সেশনে পরখ করা হয় বিশ্বের দূর প্রান্ত থেকে নিজ দায়িত্বে দেশে আসা বয়সে ছোট-বড় ৪৮ প্রবাসী ফুটবলারকে। গতকাল অনূর্ধ্ব-১৯ ও সিনিয়র দুই ভাগে বিভক্ত এ ফুটবলারদের দুটো ১ ঘণ্টাব্যাপী অনুশীলন ম্যাচ খেলানো হয়। সেসব নিয়েই গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেন টিটু। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন, সাঈদ হোসেন কানন, আলফাজ আহমেদরা। এক ঝাঁক নতুন মুখকে কেমন দেখলেন এই বিচারক পর্ষদ, সেটিই ছিল সংবাদ সম্মেলনের মূল আকর্ষণের জায়গা।
এই প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে টিটু বলেন, ‘আমরা দেশি ফুটবলারদের খুব কাছ থেকে চিনি, সেই তুলনায় প্রবাসী ফুটবলারদের ভালো করে চিনি না। কিন্তু সবাই বাংলাদেশি। প্রত্যেকের তাদের যোগ্যতার বিচারেই দলে আসার ও খেলার সুযোগ পাবে। আমরা এই খেলোয়াড়দের দেখেছি। প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে কথা হয়েছে, আমাদের ওয়াইজস্কাউট অ্যাপটির মাধ্যমে ওদের তথ্যগুলো সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। আমরা নিবিড়ভাবে সেগুলো বিশ্লেষণ করব। আর সেই অনুযায়ী পরিস্থিতি এবং দল বিবেচনায় যোগ্যদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।’
সেপ্টেম্বরে এএফসির অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব রয়েছে। তার আগে জুলাইয়ের শেষে বয়সভিত্তিক দলটির ক্যাম্প শুরু করবে বাফুফে। সরাসরি কিছু না বললেও টিটু ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন সেই ক্যাম্পে দেখা যেতে পারে এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়া অনেকগুলো মুখকে। ট্রায়ালে অংশ নেওয়া প্রায় ২৫ জনের বয়স ১৯ বছরের বেশি। নির্দিষ্ট কারও নাম জানতে চাওয়া হলে তা প্রকাশ না করে সাবধানী ভঙ্গিতে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর জানান, ‘এটা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। আমরা ভিডিও অ্যানালাইসিস ও ওয়াইজস্কাউট ব্যবহার করে দেখব যে আমরা কী পেলাম। আমরা চাই না কেউ অবিচারের শিকার হোক। আমরা একটা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। সামনের কোনো ক্যাম্পে যখন আপনারা দেখবেন কেউ চলে এসেছে, তখনই বুঝবেন তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের নিজেদের খেলোয়াড়দের উন্নতির কথা বিবেচনা করে দুটো বিষয়ই আমরা পাশাপাশি রাখব। আমাদের উদ্দেশ্য হলো জাতীয় দল যেন শক্তিশালী হয়। তাই এক্ষেত্রে আমরা অন্য কোনো বিষয় বিবেচনায় নেব না। আপনি যদি ভালো খেলোয়াড় হন, তাহলে বাংলাদেশের জন্য খেলবেন এটাই থাকবে।’
খালি চোখে প্রবাসী ফুটবলারদের প্রতিভা মূল্যায়ন করতে চায় না বাফুফে। টিটু বলেন, ‘খালি চোখে এখনই আমরা কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চাই না। আমাদের ভিডিও অ্যানালাইসিস যারা করেন তারাও ছিলেন। আমরা আসলে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে চাই। সেই সব অনুসরণ করে এখান থেকে নিয়ে যখন আমরা নিজেদের সেটআপের মধ্যে ফেলব, ভবিষ্যতে আবার যখন তাদের দেখা হবে, তখনই আসলে তাদের প্রতিভা সম্পর্কে বিশদ বলা যাবে।’
বিচারক পর্ষদে থাকা বাংলাদেশের কিংবদন্তি ফুটবলাররা এক এক করে প্রত্যেকের সঙ্গেই সময় দিয়েছেন। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করেছেন এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে। প্রবাসী ফুটবলারদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে এই যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলামদের ধারাবাহিকতায় ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জন্য কখনোই চাপের বিষয় না। বরং গণমাধ্যমের পাশাপাশি এটি আরও বেশি করে আমাদের স্বচ্ছতা ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।’ এই ট্রায়াল থেকে সরাসরি জাতীয় দলে আসার মতো কাউকে মনে ধরেছে কি না জানতে চাওয়া হলে টিটু বলেন, ‘বিষয়টি এত সহজ না। আরও অনেক বেশি পরিশ্রম প্রয়োজন, আরও বেশি নিবেদন ও আত্মত্যাগ প্রয়োজন। আমার মনে হয় যে এখনই এটা চিন্তা করা যাচ্ছে না।’