এশিয়া কাপ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও আসরে ভারত-পাকিস্তান মহারণের দিনক্ষণ অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য সূচী অনুযায়ী, আগামী ৭ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুখোমুখি হওয়ার কথা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে আমিরাতের বিভিন্ন ভেন্যুতে।
জম্মু-কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত "অপারেশন সিন্দুর" নামক সামরিক অভিযান চালায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর-এ। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে টুর্নামেন্ট নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বেছে নেওয়ায়, এবং বিসিসিআই আয়োজক হিসেবে থাকায় এশিয়া কাপ এখন অনেকটাই নির্ধারিত পথে এগোচ্ছে।
সূচী আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ঘোষণা করেনি বিসিসিআই, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)। সম্প্রচার স্বত্বধারী সংস্থা এবং স্পনসরদের পক্ষ থেকে এসিসিকে জানানো হয়েছে, সূচী চূড়ান্ত না হওয়ায় তাদের ক্যাম্পেইন, বাজেট, এবং সম্প্রচার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসিসির পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে: “সূচী চূড়ান্ত না হলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী স্পনসর ও সম্প্রচার স্বত্বধারীরা ক্ষতিপূরণ বা ছাড় দাবি করতে পারে। আমাদের রাজস্বের প্রধান উৎস এই এশিয়া কাপ, তাই সময়ক্ষেপণ ঝুঁকিপূর্ণ।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর ফাইনাল পর্যন্ত চলবে এশিয়া কাপ ২০২৫। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের এই আসরে ছয়টি দল অংশ নেবে— ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও স্বাগতিক সংযুক্ত আরব আমিরাত।
গ্রুপ পর্বের পর হবে সুপার ফোর রাউন্ড। যদি ভারত ও পাকিস্তান উভয় দলই সুপার ফোরে যায়, তাহলে ১৪ সেপ্টেম্বর আবারও দেখা হতে পারে দুই দলের।
আগে শোনা গিয়েছিল, ভারত হয়তো রাজনৈতিক কারণে টুর্নামেন্টে অংশ নেবে না। কিন্তু সম্প্রতি সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক যে প্রোমো প্রকাশ করেছে, তাতে সূর্যকুমার যাদব, নাজমুল হোসেন শান্ত ও চারিথ আসালাঙ্কাকে দেখা গেছে—যা ভারতের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।