বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য ২০২৫ সালের জুলাই মাসের শুরুটা হয়ে থাকলো ইতিহাসগড়া। প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। শুধু ইতিহাস গড়া অংশগ্রহণ নয়—এই টুর্নামেন্ট হয়ে উঠছে বড় দুটি বিশ্বমঞ্চ- নারী বিশ্বকাপ (ব্রাজিল), ২০২৮ অলিম্পিক গেমস (লস অ্যাঞ্জেলেস)-এর বাছাইপর্ব।
বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আগামী ৫ জুলাই শনিবার আরো ৭ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন্সশিপ নির্ধারিত হবে। এই ৮ দল, ২০২২ এশিয়ান কাপের সেরা ৩ দল- চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান আর আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে ২০২৬-এর মার্চে হবে এশিয়ান কাপ।
আগামী ২৯ জুলাই সিডনির টাউন হলে অনুষ্ঠিত হবে এই এশিয়ান কাপের ড্র। দলগুলোকে ফিফা র্যাঙ্কিং অনুসারে চারটি পটে ভাগ করা হবে। অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও চীন থাকবে পট-১এ। বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে ১২৮ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ থাকবে চতুর্থ পটে। ১২টি দল তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল ও সেরা দুই তৃতীয় স্থানধারী দল যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
আর কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারলেই সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ। কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী ৪ দল সরাসরি উঠে যাবে ২০২৭ ব্রাজিল বিশ্বকাপে। এশিয়া থেকে আরো দুটি দলের সুযোগ থাকবে। কোয়ার্টার ফাইনালে হারা চার দল খেলবে দুটি প্লে-ইন ম্যাচ। সেই দুই ম্যাচের জয়ীরা পাবে সরাসরি বিশ্বকাপ টিকিট।
প্লে-ইন ম্যাচে হারা দুই দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে। সেখান থেকেও বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬ সালে বা ২০২৭ সালের শুরুতে এই প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হবে, যাতে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়া থেকে আসা ১০টি দল।
এই প্লে-অফের প্রথম পর্বটি অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বর–ডিসেম্বর ২০২৬-এ, একটি নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে। এখানে ফিফা নারী র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ৬টি দল অংশ নেবে। এই পর্ব শেষে শীর্ষ ২টি দল ও বাকি ৪ দলকে ভাগ করে দেওয়া হবে ৩টি 'পাথওয়ে'তে (পথ)। প্রতিটি পাথওয়েতে থাকবে ২টি করে দল, যারা একটি নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হবে। প্রতিটি পাথওয়ের জয়ী দল পাবে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের চূড়ান্ত টিকিট।
অলিম্পিকের বাছাইপর্বেও সুযোগ
২০২৬ নারী এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা ৮টি দল পাবে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ফুটবলের বাছাইপর্বে খেলার সুযোগ। সেখানেও দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলা হবে। দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সরাসরি খেলবে অলিম্পিকে।