মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা কেন্দ্রে দুই শিক্ষার্থী

মা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। শোকে বিহ্বল স্বজনরা লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বুক ভরা কান্না চেপে রেখে পরীক্ষার হলে গিয়ে বসলেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী। এ এক নির্মম বাস্তবতা। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন এবং সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন বিষয় দুটি নিশ্চিত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইলের সখীপুরে ঘটছে এই পৃথক দুটি হৃদয় বিদারক ঘটনা।

এর মধ্যে সায়মা আক্তার হাতিয়া গ্রামের রায়হান মিয়ার মেয়ে এবং লাবনী আক্তার কচুয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান মিয়ার মেয়ে। তারা দুজনেই ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন মায়ের মরদেহ বাড়িতে রেখে।

মা হারানো সায়মা আক্তার উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এবং সখীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে লাবনী আক্তার সানস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষা দিচ্ছেন সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজ কেন্দ্রে।

দুই শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত সমস্যায় সায়মার মা শিল্পী আক্তার (৪০) নিজ বাড়িতে মারা যান। অন্যদিকে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান লাবনীর মা সফিরন (৪৫)।

সায়মা ও লাবনী দুজনই পরিবারের ছোট সন্তান। শোকের এমন সময় ভেঙে পড়লেও আত্মীয়স্বজন ও শিক্ষকদের সাহচর্যে পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে আসেন তারা।

সানস্টার ইনস্টিটিউট কলেজের অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন বলেন, এ পরিস্থিতিতে ওরা যে সাহস দেখিয়েছে, তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রহিজ উদ্দিন বলেন, সায়মা মেধাবী শিক্ষার্থী। তবে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিতে আসা সত্যি কষ্টদায়ক।