শেষটাও জয়ে রাঙানোর পালা

নারী ফুটবলারদের সৌজন্যে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বইছে খুশির হাওয়া। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলবেন ঋতু-আফিদারা। সেটি নিশ্চিত হয়েছে স্বাগতিক মিয়ানমারকে বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে হারিয়ে। তবুও মিয়ানমার অভিযান শেষ হয়নি। ইয়াঙ্গুনে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তুর্কমেনিস্তান। মধ্য এশিয়ার এই দেশটি ফিফা র‌্যাংকিংয়ে রয়েছে ১৪১তম স্থানে, বাংলাদেশের চেয়ে ১৩ ধাপ পিছিয়ে। বাছাইপর্বে ‘সি’ গ্রুপের কঠিনতম পরীক্ষায় লেটার মার্কসসহ উতরে যাওয়ার পর এবার সবচেয়ে দুর্বল দলের সামনে বাংলাদেশ। প্রায় ৮ মাস পর এশিয়ান কাপ খেলার আগে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তি দেখানোর চ্যালেঞ্জ কোচ পিটার বাটলারের দলের সামনে।

মিয়ানমারে পৌঁছানোর আগে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার দিয়েছিলেন রহস্যময় সম্ভাবনার ইঙ্গিত। বলেছিলেন, ‘ফুটবল এমনই এক খেলা যেখানে যেকোনো দিন যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমরা প্রতিপক্ষকে সবসময় সম্মানের সঙ্গে দেখি। সে অনুযায়ী আমাদের পরিকল্পনা সাজাব।’ প্রতিপক্ষ বধের ছক কষাতে সাবেক ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ তারকা পিটার বাটলার দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল বাহরাইনের বিপক্ষে আক্রমণ ও দূরপাল্লার শটের মাত্রা বাড়িয়ে আদায় করে নিয়েছিলেন ৭টি গোল। যদিও সহজ সুযোগ নষ্টের আধিক্য না থাকলে সে সংখ্যা আরও বাড়ত। পরের ম্যাচে মিয়ানমারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে সাজান হাই লাইন ডিফেন্সের ছক। যে ফাঁদে পড়ে বারবার অফসাইডের শিকার হতে হয় মিয়ানমারের আক্রমণভাগকে। শেষ মুহূর্তে মিয়ানমার এক গোল শোধ করার বেশ আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের জয়।

২-১ গোলের ওই জয়ের পর বাংলাদেশকে সুখবর এনে দেয় আজকের প্রতিপক্ষ তুর্কমেনিস্তান। ওই দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বাহরাইনের সঙ্গে তারা ড্র করে ২-২ গোলে। তাতেই হেড টু হেডের হিসাবে ‘সি’ গ্রুপের শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাটন চলে আসে বাংলাদেশের কাছে। এশিয়ান কাপের মূলপর্ব নিশ্চিতের অনুভূতি বাংলাদেশের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার প্রকাশ করেছেন এভাবে, ‘আনন্দ তো বলে বোঝানোর মতো না, এতটা আনন্দ। বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীদের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এশিয়া কাপে কোয়ালিফাই করেছে। এটা খুবই আনন্দের। আমরা গর্ব করছি যে দেশের মানুষ আমাদের এত সমর্থন করেছে এটার জন্য। এজন্য খুবই ভালো লাগছে।’ এশিয়ান কাপের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপেও চোখ রাখছেন অধিনায়ক, ‘সবাই যেভাবে আমাদের সমর্থন করছেন, সেভাবেই সমর্থন জারি রাখবেন। যেন আমরা সামনে আরও এগিয়ে যেতে পারি। দলকে আমি দেখতে চাই বিশ্বকাপের মঞ্চে। সামনে যেহেতু এই সুযোগটা আসছে, আমরা অবশ্যই এই সুযোগটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করব।’

এই গ্রুপের তলানির দল তুর্কমেনিস্তান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয়েছিল মিয়ানমারের। প্রথমার্ধে ৫টি ও দ্বিতীয়ার্ধে ৩টি মিলিয়ে মোট ৮ গোল হজম করেছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে বাহরাইনের বিপক্ষে অবশ্য আন্ডারডগ হওয়া সত্ত্বেও দারুণ নৈপুণ্য দেখায়। ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে জোড়া গোলের দেখা পায় দুদলই। তবে দুবারই এগিয়ে ছিল তুর্করা। তুর্কদের ৮৪ মিনিটে লিড নেওয়ার ৩ মিনিট পর সেই গোল শোধ করে বাহরাইন। ৮৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করে তুর্কমেনিস্তান। নিশ্চিত জেতা ম্যাচটি যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল হজম করে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুদল। এই দলের বিপক্ষে নামার আগে গোলকিপার কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল জানান, ‘দলের পরিস্থিতি আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আগামীকালের (আজ) ম্যাচের ব্যাপারে আমাদের মেয়েরা খুবই সিরিয়াস এবং ফোকাসড। আর আমরা উদযাপনটাও যেহেতু এখনো করিনি, তাই শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে টুর্নামেন্টটা শেষ করেই উদযাপন করতে চাই।’ আফিদাও বলেছেন একই কথা, ‘দলের পরিস্থিতি খুব ভালো। সবাই ফুরফুরে মেজাজে আজ ট্রেনিং করেছি। আগামীকাল আমাদের শেষ ম্যাচ। এই ম্যাচে সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’ এবার শেষটা আরও রাঙিয়ে নেওয়ার পালা বাংলার মেয়েদের।