দিয়োগো জোটা ও তার ভাই আন্দ্রে সিলভার একসঙ্গে চিরবিদায়ে পর্তুগিজ ফুটবলে বইছে গভীর শোক। কিন্তু সেই শোকের মাঝেও আলোচনার কেন্দ্রে এখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েও গন্ডোমারে অনুষ্ঠিত দুই ভাইয়ের শেষকৃত্যে উপস্থিত না থাকায় দেশজুড়ে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।
জোটার ক্লাব লিভারপুল এবং পর্তুগাল জাতীয় দলের একাধিক সতীর্থ, কোচ রবার্তো মার্টিনেজসহ অনেকে গন্ডোমারের ইগ্রেজা মাত্রিস চার্চে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ছিলেন বার্নার্দো সিলভা, দিওগো দালোট, ক্যানসেলো, রুবেন নেভেসরাও। তবে ছিলেন না পর্তুগালের সবচেয়ে বড় ফুটবল আইকন রোনালদো।
স্প্যানিশ দৈনিকের দাবি অনুযায়ী, তিনি এ সময় ছিলেন মায়োর্কার এক বিলাসবহুল ইয়টে, ছুটি কাটাচ্ছিলেন পরিবার নিয়ে। সেখানে তাকে দেখা গেছে প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ‘আজিমুট গ্র্যান্ড’ ইয়টে, যেখানে পাঁচটি বিলাসবহুল কেবিন এবং ছয়টি বাথরুমসহ আছে সবধরনের সুযোগ-সুবিধা।
‘ব্যাখ্যাতীত’ বলছেন বিশ্লেষকেরা
এই অনুপস্থিতিকে কেউ কেউ দেখছেন অবজ্ঞা হিসেবেও। প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক আন্তোনিও রিবেইরো ক্রিস্তোভাও বলেন, ‘সে তো দলের অধিনায়ক। এমন একজনের উচিত ছিল অন্ত্যেষ্টিতে থাকা। না থাকলে অন্তত ব্যাখ্যা দেয়া দরকার।’
স্পোর্টস বিশ্লেষক লুইস ক্রিস্তোভাও মন্তব্য করেন, ‘এই অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যাখ্যা দিয়েও হয়তো সমর্থন পাওয়া যাবে না।’
টিভি বিশ্লেষক পেদ্রো ফাতেলা বলেন, ‘আগামী কিছুদিন এই নিয়েই আলোচনা হবে। হয়তো জানব, কেন রোনালদো গন্ডোমারে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে অধিনায়ক হিসেবে তার পাশে থাকাটা ছিল প্রত্যাশিত।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন ফুটবলপ্রেমী ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘শুধু ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সে অন্ত্যেষ্টিতে অংশ নিতেই পারত।’
তবে সবাই এমনটা মনে করেন না। ফ্লাভিয়া নামের এক পর্তুগিজের মতে, ‘রোনালদো গন্ডোমারে উপস্থিত থাকলে হয়তো পুরো মনোযোগ সরে যেত শোক অনুষ্ঠান থেকে তার দিকেই।’
জবাবে একজন লেখেন, ‘তবে সেটাই তো সমস্যা। অনেকেই হয়তো শুধু রোনালদোকে দেখতে যেত, জোটা বা আন্দ্রের জন্য নয়।’
রোনালদো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দেননি। তবে ইনস্টাগ্রামে তিনি একটি আবেগঘন পোস্টে লেখেন, ‘বিশ্বাস হচ্ছে না। কিছুদিন আগেই তো একসাথে ছিলাম, তুমি সদ্য বিয়ে করেছো... তোমার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য রইল সমবেদনা ও অশেষ শক্তি। রেস্ট ইন পিস, জোটা ও আন্দ্রে। আমরা সবাই তোমাদের মিস করবো।’
শেষ শ্রদ্ধায় একজন সতীর্থের অনুপস্থিতি হয়তো সময়ের সাথে ভুলে যাবে অনেকে। কিন্তু একজন অধিনায়ক হিসেবে রোনালদোর এমন সিদ্ধান্ত যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, সেটি আপাতত থামছে না পর্তুগালে।