রাদুকানুর বিদায়ে একা হয়ে পড়লেন আলকারাজ

যেন তারা ছিলেন ব্রিটিশ টেনিসের নতুন যুগের দুই প্রতীক—এমা রাদুকানু ও কার্লোস আলকারাজ। কোর্টের বাইরে বন্ধুত্ব, ভেতরে আলাদা যাত্রা। উইম্বলডনের সবুজ ঘাসে যখন রাদুকানু ফিরেছিলেন পুরোনো ঝলক নিয়ে, তখন ব্রিটিশ দর্শকের চোখে ফুটে উঠেছিল নতুন স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন গড়িয়ে পড়েছে গতকালের বিকেলে, আরিনা সাবালেঙ্কার হাতে পরাজয়ে।

সেন্টার কোর্টে তিন সেটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৬–৩, ৩–৬, ৬–৪ ব্যবধানে হার মেনেছেন ২১ বছর বয়সী রাদুকানু। দ্বিতীয় সেটে অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ সেটে সাবালেঙ্কার শক্তির সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনি। দর্শকেরা হতাশ, কারণ এই ম্যাচে তাদের হৃদয় ছিল রাদুকানুর সঙ্গে।

‘আমি আমার পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত,’ ম্যাচ শেষে বলেছিলেন রাদুকানু। ‘আমি জানি, এখনো আমার সেরা ফর্মটা আসেনি, কিন্তু আমি সঠিক পথে আছি।’

রাদুকানুর বিদায়ের পর উইম্বলডনের ব্রিটিশ স্বপ্ন এখন টিকে আছে কেবল একজনের কাঁধে—কার্লোস আলকারাজ। যদিও তিনি স্প্যানিশ, তবে ব্রিটিশ সমর্থকের হৃদয়ে তার জায়গা বিশেষ। উইম্বলডনে দারুণ ফর্মে থাকা এই তরুণ চতুর্থ রাউন্ডে পৌঁছেছেন অনেকটা স্বচ্ছন্দেই। গত ম্যাচে তার আধিপত্য এতটাই স্পষ্ট ছিল যে প্রতিপক্ষ যেন লড়াইয়ের সুযোগই পাননি।

গত বছরের চ্যাম্পিয়ন আলকারাজ এবারো এগোচ্ছেন দৃপ্ত পায়ে। তবে তার পাশ থেকে বিদায় নিয়েছে এমন একজন, যিনি টুর্নামেন্টের রঙে এনে দিয়েছিলেন বাড়তি উচ্ছ্বাস। উইম্বলডনের গ্যালারিতে যে আলাদা এক বন্ধুত্বের রসায়ন চোখে পড়ত, এখন সেটি যেন খানিকটা ফাঁকা।

অবশ্য আলকারাজ নিজেই বলেছেন, ‘এমার খেলা দেখে আমি অনুপ্রাণিত হই। সে দারুণ লড়াকু। উইম্বলডনে আমরা একে অপরকে উৎসাহ দিচ্ছি, এটা বিশেষ কিছু।’

এখন আর দুজন নন, উইম্বলডনের শেষ ভাগে একাই পথ চলতে হবে আলকারাজকে। আর টেনিসপ্রেমীরা তাকিয়ে থাকবে—এই তরুণ কতটা দূর যেতে পারেন।