গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় একদিনে কমপক্ষে ৮১ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যাও অনেক। হতাহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও একাধিক পরিবারের সদস্য রয়েছেন।
গতকার রবিবারের এই হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেছে তুরস্কভিত্তিক বার্তাসংস্থা আনাদোলু। সংস্থাটি জানিয়েছে, দিনভর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ও ড্রোন থেকে চালানো হামলায় গাজার বিভিন্ন অঞ্চল রক্তাক্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে অনেকেই একই পরিবারের সদস্য।
গাজার শেখ রাদওয়ান ও আল-নাসর এলাকায় দুটি বাড়িতে বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাতের ঘুমে বিভোর থাকা অবস্থায় ২৫ জন প্রাণ হারান। বহু মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
এছাড়া ওয়াদি গাজার দক্ষিণে এক ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের আশপাশে গোলাবর্ষণে ৪ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন বলে জানিয়েছে আল-আউদা হাসপাতাল। গাজা শহর এবং নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরেও বেসামরিক লোকদের ওপর হামলায় ৬ জনের প্রাণ গেছে।
উত্তর গাজার আল-সাফতাওয়ি এলাকায় একটি বেসরকারি গাড়িতে ড্রোন হামলায় তিন ভাই নিহত হন। শেখ রাদওয়ান এলাকার এক আশ্রয়কেন্দ্রে চালানো আরেক ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান আরও ৩ জন। গাজার পশ্চিমের শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া মানুষের ওপর বিমান হামলায় নিহত হন অন্তত ৭ জন, যাদের মধ্যে শিশুও ছিল।
আল-শিফা হাসপাতাল সূত্র জানায়, অনেক মরদেহ খণ্ডবিখণ্ড অবস্থায় হাসপাতালে আসে এবং আহতদের সংখ্যা ছিল প্রচুর। খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় দুটি অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে বিমান হামলায় প্রাণ হারান অন্তত ১০ জন, যাদের মধ্যে গর্ভবতী নারী এবং শিশু রয়েছে।
আল-আলবানী মসজিদের কাছে চালানো এক ড্রোন হামলায় চারটি মরদেহ উদ্ধার হয়, যাদের মধ্যে তিনজনই শিশু। আল-তুফাহ ও আল-দারাজ এলাকায় আবাসিক ভবনে চালানো বোমা হামলায়ও বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। আবার, নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পরিবারের ৮ সদস্য এক ড্রোন হামলায় মারা যান। অন্য একটি হামলায় আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, যখন মানুষজন ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখনই এই হামলাগুলো চালানো হয়। ইসরায়েলের অবরোধে থাকা গাজার মানুষ খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে রয়েছেন।
যদিও বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির আহ্বান উঠেছে, কিন্তু ইসরায়েল গাজায় সহিংসতা বন্ধ করেনি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫৭ হাজার ৪০০, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
এই প্রেক্ষাপটে গত বছর নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও বিচারাধীন রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে।