দোন্নারুম্মার ওপর যে কারণে ক্ষুব্ধ বায়ার্ন ফুটবলাররা

জামাল মুসিয়ালার গুরুতর চোট কেবল মাঠেই নয়, তোলপাড় তুলেছে ড্রেসিংরুমেও। পিএসজি বনাম বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচ শেষে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে—এমন তথ্যই জানিয়েছেন বায়ার্নের সাবেক ডিফেন্ডার রাফিনহা। তার ভাষ্যমতে, গোলরক্ষক দোনারুম্মার আচরণে অসন্তুষ্ট ছিলেন বায়ার্নের খেলোয়াড়েরা।

স্পোর্ট টিভির অনুষ্ঠানে রাফিনহা বলেন, ‘মাঠে এ রকম সংঘর্ষ হতেই পারে। কেউ ইচ্ছা করে চোট দিতে যায় না। তবে বায়ার্নের খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ ছিলেন এই কারণে যে, দোনারুম্মা অন্তত একটা দুঃখপ্রকাশও করেননি। তারা চেয়েছিল, সে যেন অন্তত একটা ‘সরি’ বলে আসে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে উত্তেজনাও তৈরি হয়। কয়েকজন খেলোয়াড় পিএসজির ড্রেসিংরুমে গিয়ে তাকে অনুরোধ করে বায়ার্নের ড্রেসিংরুমে গিয়ে ক্ষমা চাইতে। সেখানে কিছু কঠিন কথাও হয়েছে। একটা ধরনের নৈতিক কোড বলে কথা—দোষী না হলেও এমন সময় অন্তত ক্ষমা চাওয়াটা কাম্য।’

ঘটনার পর স্প্যানিশ রেডিও আরএমসি স্পোর্ট জানিয়েছে, ম্যাচ শেষে দোনারুম্মা বায়ার্নের ড্রেসিংরুমে গিয়ে মুসিয়ালাকে খুঁজলেও তাকে পাননি। কারণ, জার্মান ফরোয়ার্ডকে এরই মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবশ্য মুসিয়ালাকে মেসেজ পাঠিয়ে দুঃখপ্রকাশ ও দ্রুত সেরে ওঠার শুভকামনা জানিয়েছেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক।

২২ বছর বয়সী মুসিয়ালার ইনজুরি ঘটে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে। বল ধরে বাইলাইনের দিকে ছুটছিলেন তিনি, তখনই গোল ঠেকাতে গিয়ে দোনারুম্মা আছড়ে পড়েন তার বাঁ পায়ের ওপর। মুহূর্তেই ‘অসামান্য’ বিকৃত হয়ে যায় পা—যা দেখে হতবাক হয়ে যান মাঠে থাকা সব খেলোয়াড়, এমনকি দোনারুম্মাও মুখ ঢেকে ফেলেন হাত দিয়ে।

মাত্র তিন মাসের চোট বিরতি কাটিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম একাদশে ফিরেছিলেন মুসিয়ালা। এবারও আবার তাকে ছিটকে যেতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়ের জন্য। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, প্রায় পাঁচ মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে এই তরুণ তারকাকে।

বায়ার্ন মিউনিখ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মুসিয়ালার বাম পায়ের ফিবুলা হাড়ে ভাঙা ধরা পড়েছে, যা ঘটেছে গোড়ালির জোড়ার স্থানচ্যুতির কারণে। রবিবার সকালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে মিউনিখে ফিরিয়ে আনা হয় এবং খুব শিগগিরই অস্ত্রোপচার করা হবে।

ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বায়ার্নের ফুটবল পরিচালক ম্যাক্স এবার্ল, ‘এটা কেবল খেলোয়াড় হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও মুসিয়ালার জন্য দুঃসহ একটি অধ্যায়। সবাই জানে, সে আমাদের দলের কেন্দ্রীয় চরিত্র। মাত্রই চোট কাটিয়ে ফিরেছে, আবারও দীর্ঘ সময়ের জন্য ছিটকে গেল। আমরা তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব এবং তার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।’

মুসিয়ালার চোটে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বায়ার্নের আরেক তারকা আলফন্সো ডেভিসও, যিনি একটি লাইভস্ট্রিমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শোক প্রকাশ করেন।

এই ইনজুরি শুধু একজন তরুণ ফুটবলারের ক্যারিয়ারেই নয়, দুই দলের পারস্পরিক সম্পর্কেও ফেলেছে ছায়া—মাঠের সংঘর্ষ মাঠেই থেমে থাকেনি, গড়িয়েছে ড্রেসিংরুমের ভেতরেও।