আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে একটি সত্যিকারের জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) দুপুরে শেরে বাংলা নগর থানা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আয়োজিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচির দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্যদিকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান বলেন, বিএনপির বাংলাদেশ জনপ্রিয় দল। যেন কোন মানুষকে আমাদের সদস্য করতে হবে। বিএনপি একটা শেকড় গাঁথা বট বৃক্ষের নাম। অন্য দলের মত সড়কে চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে সদস্য সংগ্রহ করার জন্য ডাকতে হয় না। অনেকে গণহারে সদস্য নিয়ে নিচ্ছে। মনে রাখবেন বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল। এখানে খারাপ মানুষের স্থান নেই। আমরা যাচাই-বাছাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমাদের সদস্য নেব।
মোস্তফা জামান দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, ‘অনেকেই আছেন যারা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মে লিপ্ত, অথচ দলের সাথে তাদের প্রকৃত কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের সম্পর্কে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’
আমিনুল হক বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে আমাদের রাজনীতি, কর্মকাণ্ড ও কর্মপরিকল্পনা হবে এদেশের সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। সহনশীলতা ও ধৈর্য ধারণ করে, জনগণের মতামত ও সকলকে সাথে নিয়ে আমরা একটি সুন্দর সমাজ গড়তে চাই।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত মব ঘটনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা মব তৈরি করছে, বিশৃঙ্খলা করছে, তাদের প্রতি বিএনপির কোনো সমর্থন নেই। এমনকি যদি কেউ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৭ বছর ধরে অন্যায়কারী ও বিশৃঙ্খলাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি সেই পথে হাঁটে না। বিএনপি সাধারণ মানুষের ভাষা বোঝে এবং সেই ভাষা অনুযায়ী উন্নয়নমুখী রাজনীতি করে।’
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘যারা রাজপথে জীবন উৎসর্গ করেছেন, আন্দোলন করেছেন, তাদের সদস্যপদ আগে নবায়ন হবে এবং তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করা হবে।’
তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করেছে, রাতের আঁধারে চা খেয়েছে, ব্যবসা ঠিক রেখেছে কিংবা আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলেছে, তাদের সদস্যপদ নবায়নের কোনো সুযোগ নেই।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, মহানগর উত্তর এর যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এবিএমএ রাজ্জাক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত), গাজী রেজাউনুল হোসেন রিয়াজ, মুহাম্মদ আফাজ উদ্দিন, হাজী মুহাম্মদ ইউসুফ, মো. শাহ আলম, মহানগর সদস্য মো. নাসির উদ্দিন, এম এস আহমাদ আলী, আশরাফুজ্জাহান জাহান, তাসলিমা রিতা, নূরুল হক ভূইয়া নূরু, মনিরুল ইসলাম রাহিমী, মহিলাদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা, তেজগাঁও থানা বিএনপি আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. মিরাজ উদ্দিন হায়দার আরজু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাফিজুর রহমান কবির, শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাঈম, যুগ্ম আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ, থানা বিএনপির সিনিয়র সদস্য আমজাদ হোসেন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মো. নূরুল হক, মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এনায়েতুল হাফিজ, মীর মোঃ কামাল হোসেন, মিজানুর রহমান ইসহাক, নাসির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন মাসুদ, চৌধুরী বকশী, মোহাম্মদপুর থানা ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুম খান রাজেশ, সাধারণ সম্পাদক ওসমান রেজা, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ওসমান গনি সেন্টু, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল হক রনি।