বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার হাতছানি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার উইয়ান মুলডারের সামনে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্টেই তিনি খেলেছেন ৩৬৭ রানের এক অসাধারণ ইনিংস, যা তাঁকে পৌঁছে দিয়েছিল ব্রায়ান লারার কিংবদন্তি ৪০০ রানের রেকর্ডের সীমানায়। অথচ ঠিক সেখানেই থেমে যান মুলডার। ব্যাট হাতে আরও ৩৩ রান দূরে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছায় ইনিংস ঘোষণা করে দেন তিনি—শুধু লারার প্রতি সম্মান জানাতেই।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন এক বক্তব্যে মুলডার বলেন,
“ব্রায়ান লারা একজন লিজেন্ড। এমন একজন মানুষের রেকর্ডের প্রতি সম্মান জানানো উচিত। আমি মনে করি, তাঁর সেই কীর্তি থাকারই কথা। আমি যদি আবারও এমন পরিস্থিতিতে যাই, আমি ঠিক একই সিদ্ধান্ত নেব। আমি শুকরি কনরাড (দক্ষিণ আফ্রিকার হেড কোচ)–এর সঙ্গে কথা বলেছিলাম, তিনিও একইভাবে চিন্তা করেন।”
এই ইনিংসের মাধ্যমে প্রথমবার টেস্ট অধিনায়কত্ব করতে নামা কোনও খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড (২৭৭) ভেঙে ফেলেন মুলডার। তাঁর রান পেরিয়ে যাওয়ার পর নিজের ইনিংসের দিকে তিনি মনোযোগ দেন বলে জানান,
“আজ সকালে নাশতায় কেউ একজন বলেছিল যে অভিষেক টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে ২৭৭-ই সর্বোচ্চ স্কোর। ওটাই ছিল প্রথম টার্গেট। এরপর আমি হাশিম আমলার রান পেরিয়ে গেলাম, আর তখুনি খেয়াল করলাম আমি ৩১২-এ পৌঁছে গেছি।”
তবে শুধু ব্যাটিং নয়, ইনিংসের সময় তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন মুলডার।
“গত রাতে নো বল থেকে বেঁচে যাই—ওটা আমাকে অনেক চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। অনেক নেতিবাচক ভাবনা আসছিল। তবে নিজেকে বলেছি, পজিটিভ থাকতে হবে। শুধু নিজের জুতার দিকে তাকিয়ে গান গেয়ে গেয়ে নিজেকে শান্ত রেখেছি।”
তিনি জানান, আগে বাংলাদেশে খেলাকালীন সময় মাথায় ঘুরত এক আফ্রিকান্স গান। আর এই ইনিংসে মাথায় বাজছিল ক্র্যানবেরিস ব্যান্ডের বিখ্যাত গান ‘Zombie’।
মুলডার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর ক্রিকেট-যাত্রায় সহায়তাকারী সকলের প্রতি।
“আমি যখন প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলি, তখন মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ইংল্যান্ডে খেলার অভিজ্ঞতা আমাকে টেকনিক ও মানসিকভাবে অনেক উন্নতি করতে সাহায্য করেছে। জিম্বাবুয়ের কোচ জাস্টিন সিমন্সও আমার শর্ট বল খেলায় দারুণ সাহায্য করেছেন।”
তাঁর এই ইনিংস শুধু দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ এটি শুধু রানের হিসাব-নিকাশ নয়, একজন খেলোয়াড়ের মানবিকতা ও শ্রদ্ধাবোধের অনন্য উদাহরণ—যেখানে নিজের কীর্তির চেয়ে অন্য এক কিংবদন্তির প্রতি সম্মানকে বড় করে দেখেছেন উইয়ান মুলডার।