হক-আই বিতর্ক টেনিসেও, পাভলিউচেনকোভার কাছ থেকে 'পয়েন্ট চুরি'

উইম্বলডনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরোপুরি ইলেকট্রনিক লাইন কলিং (ইএলসি) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলেও, রোববার সোনায় কারটালের বিপক্ষে ম্যাচে তা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হলো বলে অভিযোগ করলেন রাশিয়ান টেনিস তারকা আনাস্তাসিয়া পাভলিউচেনকোভা।

ম্যাচের প্রথম সেটে ৪-৪ গেমে ব্রিটিশ প্রতিপক্ষ কারটাল একটি শট পরিষ্কারভাবেই বেসলাইনের বাইরে মারেন। ভিডিও রিপ্লেতে বিষয়টি স্পষ্ট হলেও, ইএলসি সিস্টেম থেকে কোনো 'আউট' ঘোষণা আসেনি। ফলে পয়েন্টটি পুনরায় খেলার সিদ্ধান্ত দেন চেয়ার আম্পায়ার।

এই পয়েন্টটি পেলে সার্ভ ধরে ৫-৪ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে পারতেন পাভলিউচেনকোভা। কিন্তু রিপ্লে পয়েন্টে হেরে যান তিনি, এরপর পুরো গেমও হারান, যার ফলে কারটাল সার্ভ করার সুযোগ পান প্রথম সেট জয়ের জন্য।

 পয়েন্টটি হাতছাড়া হওয়ার পর বিরতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করেন ৩৪ বছর বয়সী পাভলিউচেনকোভা। আম্পায়ারকে তিনি বলেন, “সে (কারটাল) লোকাল বলেই তোমরা যা খুশি বলছো। তোমরা আমার গেমটাই নিয়ে নিয়েছো।” এরপর আরও বলেন, “তারা আমার কাছ থেকে গেমটা চুরি করেছে, এটা একদম চুরি।”

ইএলসি প্রযুক্তি নিয়মানুযায়ী সম্প্রচারকারীদের রিপ্লে আম্পায়াররা ব্যবহার করতে পারেন না, তাই পয়েন্ট ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল না।

 যদিও পরবর্তী গেমে তিনি কারটালের সার্ভ ব্রেক করে ৫-৫ করেন এবং টাইব্রেকে জয়ী হয়ে প্রথম সেট জেতেন। পরে দ্বিতীয় সেটও জিতে ম্যাচটি সরাসরি দুই সেটে নিজের করে নেন পাভলিউচেনকোভা। তবে প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের সেই ক্ষণিক ধাক্কা তাঁর মধ্যে হতাশা ও মানসিক চাপ তৈরি করেছিল নিঃসন্দেহে।

এই বছরই প্রথমবারের মতো উইম্বলডনে সম্পূর্ণভাবে ইএলসি প্রযুক্তি চালু হয়, যা ১৪৭ বছর ধরে কাজ করে আসা মানব লাইনের বিচারকদের জায়গা নিয়েছে। এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে হক-আই, যা আগে থেকেই ক্রিকেট ও ফুটবলে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।