বাথরুম ব্রেকে উইম্বলডন ট্রফি দেখে বদলে গেলেন নোসকোভা

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

সেন্টার কোর্টের গগনবিদারী চিৎকার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে দুই কানে আঙুল গুঁজে দিয়েছিলেন ২১ বছর বয়সী লিন্ডা নোসকোভা। উইম্বলডনের ঐতিহ্যবাহী লাল তোয়ালে দিয়ে মাথাটা ঢেকেও যখন স্বস্তি পাচ্ছিলেন না, তখন নাটুকে ফাইনালের দ্বিতীয় সেট হাতছাড়া হওয়ার পর পুরোপুরি কোর্ট ছেড়ে বেরিয়ে যান বাথরুম ব্রেকে। আর সেই সংক্ষিপ্ত বিরতিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল।

শনিবার উইম্বলডনের অল-চেক (দুইজনই চেক প্রজাতন্ত্রের) ফাইনালে ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭, ৬-৩ ব্যবধানে হারিয়ে নারীদের একক শিরোপা জিতেছেন লিন্ডা নোসকোভা। তবে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। দ্বিতীয় সেটে ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এবং ৫টি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া করে একপ্রকার মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলেন নোসকোভা।

কোর্ট ছেড়ে যাওয়ার সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে নোসকোভা বলেন, "বাথরুমে যাওয়ার সময় দুটি চকচকে ট্রফি আমার নজরে আসে—চ্যাম্পিয়নের জন্য রাখা বড় 'ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ' এবং রানার্স-আপের ছোট থালাটি। আমি নিজেকে বললাম, 'আমি ছোটটা নিয়ে ফিরব না, বড়টাই আমার চাই। জয়ের এত কাছে এসেও যদি হেরে যাই, তবে এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় হৃদয়ভঙ্গ হবে। তৃতীয় সেটে কোর্টে আমি আমার আত্মা ঢেলে দেব, যা হওয়ার হোক।'"

কোর্টে ফিরে নিজের সেই প্রতিজ্ঞারই প্রতিফলন ঘটালেন নোসকোভা। দ্বিতীয় সেটের বিপর্যয় কাটিয়ে তৃতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়ান এবং ষষ্ঠ ম্যাচ পয়েন্টে দুর্দান্ত এক সার্ভিস উইনারের মাধ্যমে জয় নিশ্চিত করেন। জয় আসতেই দুহাতে মুখ ঢেকে ঘাসের কোর্টের ওপর পিঠ ঠেকিয়ে শুয়ে পড়েন এই তরুণী।

কয়েক মিনিট পর প্রিন্সেস অব ওয়েলস কেটের হাত থেকে ট্রফি নেওয়ার সময় নোসকোভা বলেন, "শেষ পয়েন্টটি পাওয়া কখনোই সহজ ছিল না। কারো (মুচোভা), তুমি আমাকে এই ট্রফির জন্য সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করিয়েছ।"

এই জয়ের মাধ্যমে গত চার বছরের মধ্যে তৃতীয় চেক নারী হিসেবে উইম্বলডনের ঘাসের কোর্টে রাজত্ব করলেন নোসকোভা। এর আগে ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুশোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেচিকোভা উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত