দুমকির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপর্যস্ত জনজীবন

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব আর ৪ দিনের টানা বৃষ্টিতে পটুয়াখালীর দুমকিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পায়রা নদীর জোয়ারের পানিতে মাঠ-ঘাট, ফসলি জমি, পুকুর-ডোবা, গ্রামীণ রাস্তাঘাট তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে মানুষের। অনেকে ঘরবন্দী হয়ে রয়েছেন।

গত শনিবার থেকে টানা ভারি বৃষ্টি ও পায়রা লোহালিয়া নদীর জোয়ারের পানিতে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারগাছিয়া, পাংগাশিয়া ইউনিয়নের রাজগঞ্জ-চান্দখালী, বাঁশবুনিয়া, হাজিরহাট, আলগি, আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর, জলিশা কদমতলা ও মুরাদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মুরাদিয়া, সন্তোষদি, চরগরবদি, দক্ষিণ মুরাদিয়ার কলাগাছিয়া এবং লেবুখালী ইউনিয়নের লেবুখালী, আঠারগাছিয়া, কার্ত্তিকপাশাসহ বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এলাকা তলিয়ে গেছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র উপজেলা কমপ্লেক্সের চত্বরে পানি ঢুকে স্টাফ কোয়ার্টার, ডাকবাংলো, খেলার মাঠ ও রাস্তা তলিয়ে গেছে। পায়রা, পাতাবুনিয়া ও মুরাদিয়া নদীর তীরবর্তি ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। ৫-৬ ফুট উচ্চতার পানিতে ওইসব এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে রয়েছে।

অপরদিকে বিস্তীর্ণ এলাকার মাঠ-ঘাট, ফসলি জমি, পুকুর, ডোবা, মাছের ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। টানা বৃষ্টি আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ।

লেবুখালী ইউনিয়নে পানিবন্দি অনিল চন্দ্র শীল বলেন, পায়রা নদীর পানিতে বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। রান্না করতে না পেরে অভুক্ত দিন কাটাতে হচ্ছে। একই এলাকার মান্নার ঘরামি বলেন, পানিবন্দী হওয়ায় পরিবার নিয়ে মুড়ি, চিড়া ও শুকনো খাবার খেয়েছি।

শ্রীরামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দুমকি গ্রামের বাসিন্দা জব্বার গাজী বলেন, টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বাড়ির আঙ্গিনা, চলাচলের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনমজুর রুস্তুম আলী বলেন, টানা বৃষ্টিতে কাজকর্ম বন্ধ। পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি।