জলিশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

‘স্কুলজীবন শেষ হতে চললেও ভবনের কাজ শেষ হয়নি’

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪০ এএম

পটুয়াখালীর দুমকির আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন চারতলা একাডেমিক ভবনের কাজ সাড়ে ছয় বছরেও শেষ হয়নি। নির্মাণ শুরুর পর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার কলাম নির্মাণ করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে ঠিকাদারের কোনো খোঁজ মিলেছে না। এদিকে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২০২০ সালের ৩ মার্চ ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায় পটুয়াখালীর মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স। কিন্তু কাজ শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছরেও প্রকল্পের আর কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। নির্মাণ সামগ্রী রাখার জন্য বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই কক্ষটি এখনও তালাবদ্ধ থাকায় সীমিত শ্রেণিকক্ষে পালাক্রমে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে পাঠদান, পরীক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মার্জিয়া তাবাচ্ছুম বলেন, নতুন ভবনের কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু স্কুলজীবন শেষ হতে চললেও ভবনের কাজ শেষ হয়নি। কক্ষসংকটের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম হাওলাদার জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি একাধিকবার শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সীমিত শ্রেণিকক্ষে পালাক্রমে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের ভিত্তির গর্তে বছরের পর বছর বৃষ্টির পানি জমে থাকছে। বর্তমানে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। তাদের মতে, এটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও তদারকির দুর্বলতার স্পষ্ট উদাহরণ।

এবিষয়ে পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। বিধি অনুযায়ী কার্যাদেশ বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো প্রতিনিধির সাড়া পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত