ব্রাজিলের জন্য লজ্জার দিন ৮ জুলাই। ২০১৪ সালের এ দিন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ১-৭ গোলে হেরে গিয়েছিল তারা। কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে জেতানো অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা সেই ম্যাচটি খেলতে পারেননি সাসপেশনের কারণে। এরপর থেকে ব্রাজিল আর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেই উঠতে পারেনি। বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে তারা দুইবার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যায়।
আজ আরেকটি ৮ জুলাই। থিয়াগো সিলভা আরেকটি বিশ্বকাপ- ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেবেন। ২০১৪'র ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ফাইনালে ওঠার সুযোগ তার সামনে। আজকের এই ম্যাচ তিনি শুধু জিততে চান না, ক্লাব বিশ্বকাপ ট্রফি জেতা প্রথম খেলোয়াড় হতে চান।
থিয়াগো সিলভা বলেন, "আমি মনে করি খেলা উপভোগ করা মানে শুধু আনন্দ নিয়ে মাঠে নামা নয়, দায়িত্বের সাথে খেলা। আমি বিশ্বাস করি ঈশ্বর আমাকে অনেক আশীর্বাদ করেছেন। আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করব বলে কেউ আশা করেনি। আমরা এখানে নিজেদের যোগ্যতায় এসেছি। এখন আমাদের মুহূর্তটা উপভোগ করতে হবে, আমাদের দায়িত্ব নিয়ে মনোযোগ দিয়ে খেলতে হবে।"
ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালগুলো থিয়াগো সিলভার ক্যারিয়ারের প্রতীক। সেমিফাইনালে ওঠা চারটি দলের মধ্যে তিনটিরই অধিনায়ক ছিলেন তিনি। ফ্লুমিনেন্সে তার ফুটবল জীবনের শুরু। ২০০৭ সালে কোপা ডো ব্রাজিল জয় এবং ২০০৮ সালে কোপা লিবার্তাদোরেসের রানার-আপ হওয়ার পর তিনি ইউরোপে সুযোগ পান।
এসি মিলানে তিনি ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। তবে পিএসজিতে থিয়াগো ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি আট মৌসুমে সাতটি ফ্রেঞ্চ চ্যাম্পিয়নশিপ, ছয়টি লীগ কাপ এবং পাঁচটি কাপ ও সুপার কাপ জিতেছেন।
পিএসজির হয়ে একটি শিরোপাই জিততে পারেননি- চ্যাম্পিয়নস লিগ। ২০২০তে ফাইনালে উঠলেও হেরে যান বায়ার্ন মিউনিখের কাছে। এরপর ৩৬ বছর বয়সে যোগ দেন চেলসিতে। সেখানেও দারুণ সফল হন। লন্ডনে তিনি চার মৌসুম খেলেছেন এবং একটি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ, একটি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ এবং একটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। ফ্লুমিনেন্সে ফিরে আসার আগে তিনি চেলসির ভক্তদের মনে জায়গা করে নেন।
আজ সেই চেলসির বিপক্ষেই সেমিফাইনাল খেলতে নামছে স্বদেশী ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। থিয়াগো বলেন, "এই দুটি ক্লাবের (চেলসি এবং পিএসজি) সাথে আমার খুব ভালো সময় কেটেছে। এখন আমার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়েও আমি গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছি। আমি যদি চেলসিকে হারাতে পারি, তাহলে সেটা বিশেষ হবে, যদিও আমি তাদের ভালোবাসি। কিন্তু যখন আমরা একে অপরের মুখোমুখি হই, তখন শুধু নিজের দলের কথাই ভাবতে হয়। এরপর আমি স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেলসি এবং প্যারিসকে সমর্থন করব। আমি চিরকাল এই ক্লাবগুলোর কাছে কৃতজ্ঞ থাকব। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু করেছি এবং ফ্লুমিনেন্সের জন্যও তা চালিয়ে যাব। আমি আশা করি আমরা যোগ্যতা অর্জন করতে পারব।"