সদ্য শেষ হওয়া ভারত-ইংল্যান্ড এজবাস্টন টেস্টের বল নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। ডিউক বলে খেলা এই টেস্টে রানের বন্যা বয়ে গেছে। বোলাররা ছিল অনেকটাই অসহায়। সাধারণত ৮০ ওভার পর বল পরিবর্তন করার নিয়ম থাকলেও তার আগেই ডিউক বল দ্রুত নরম হয়ে যাচ্ছে। সমালোচনার মুখে ডিউক বল প্রস্তুতকারক কম্পানি প্রস্তাব দিয়েছে, ৬০ ওভার পরপর বল পরিবর্তন করার।
৩৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়ের পরও ডিউক বলের সমালোচনা করে ভারত অধিনায়ক শুবমান গিল বলেছেন, ‘পিচের চেয়েও দ্রুতগতিতে আকৃতি হারাচ্ছে এবং নরম হয়ে যাচ্ছে এই বল। এমনটা হলে মাত্র ২০ ওভারই বোলাররা সাহায্য পাবে। তারপর থেকেই কীভাবে রান থামান যায়, সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। রক্ষণাত্বক বোলিং করতে হবে। এমনটা হলে খেলাটাই অর্থহীন হয়ে পড়বে।’
এজবাস্টন টেস্টের পঞ্চম দিনের ১৪তম ওভার থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা বল পরিবর্তনের অনুরোধ করছিলেন। ২৮তম ওভারে বল পরিবর্তনে বাধ্য হন আম্পায়ার। সেই আনন্দে রবীন্দ্র জাদেজাকে আম্পায়ারের সাথে উদযাপন করতেও দেখা যায়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও মাত্র ১৬তম ওভার থেকে বল পরিবর্তনের অনুরোধ করছিল। চারটি অনুরোধ খারিজ করার পর ৫৬তম ওভারে বল পরিবর্তনে বাধ্য হন আম্পায়ারেরা। বলটিকে সংশ্লিষ্টরা ‘খেলার জন্য অনুপযুক্ত’ বলে মনে করেছেন!
তবে এসব অভিযোগ খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না ডিউক। ইংল্যান্ডের ডিউকস কারখানার মালিক দিলীপ জাজোদিয়া ‘মুম্বাই মিরর’কে বলেছেন, ‘বলের সমালোচনা করা এখন ফ্যাশন হয়ে উঠেছে। বোলার এবং অধিনায়করা উইকেট নিতে না পারলে আম্পায়ারদের উপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা তাদের অভ্যাসে পরিণত করেছে। উইকেটের আচরণ কিংবা বোলারদের দক্ষতা নিয়ে কেউ কথা বলে না। ইনিংসে পাঁচ-ছয়টি সেঞ্চুরি হলেই সবাই সবাই বলকে দোষ দিচ্ছে।’
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজের সময়ও, জশ হ্যাজেলউড অভিযোগ করেছেন যে তিনি কখনও ৭০ ওভারের পুরনো নরম বল দিয়ে বল করেননি। তবে জাদেজিয়া মনে করেন ৮০ ওভারের আগেই বল পরিবর্তন করা উচিত, ‘ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের উচিত, ৮০ ওভারের পরিবর্তে ৬০ থেকে ৭০ ওভারের মধ্যে বল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া। তবে কেউ যদি আশা করে বল ৬৯.৫ ওভার পর্যন্ত শক্ত থাকবে.. তাহলে আমি ভয় পাচ্ছি! কারণ, এটা সম্ভব নয়।’