গত ৬ জুলাই সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মাদারবনিয়া থেকে ১ লাখ ইয়াবাসহ টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মো. মনির (৩২) এবং স্থানীয় মঞ্জুর আলমকে (২৮) আটক করে র্যাব। তাদের দুইজনকে আটকের পরই কক্সবাজারের টেকনাফে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারে সংঘবদ্ধ ‘ইসলাম গ্যাং’ নামের একটি সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
আওয়ামীলীগের নেতাদের আশ্রয়ে বেড়ে উঠা এই গ্যাংয়ের কার্যক্রম এখন বন্ধ হয়নি। উল্টো দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট।
এলাকাবাসি জানিয়েছেন, ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারে জড়িত ‘ইসলাম গ্যাং’ এর অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি। প্রতি রাতে কোন না কোন এলাকায় এই গ্যাং লিডারের নেতৃত্বে ফাঁকা গুলি বর্ষণসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তারা।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়ার আবদুল গফুর জানিয়েছেন, র্যাবে হাতে যারা ১ লাখ ইয়াবাসহ আটক হয়েছে তারা ইসলাম গ্যাংয়ের সদস্য। আটকের আগের রাতে দুই জনকে সাথে নিয়ে ইসলাম, রাসেল ও কালা রফিককে এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। সংঘবদ্ধ গ্যাংটি দীর্ঘ সময় ধরে ইয়াবা ও অস্ত্র পাচারে জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসির দেয়া তথ্য মতে, ছোট হাবির পাড়ার ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ ইসলামের নামেই এই গ্যাংটি পরিচালিত হয়ে আসছে। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা শাকের আহমদের ছোট ভাই ইসলাম। এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা করে দীর্ঘ সময় ধরে অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। ভারী দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে দখল, ইয়াবা ও অস্ত্র ব্যবসা করে যাচ্ছে তারা।
এলাকাবাসির অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে এই গ্যাংটি এলাকায় তাণ্ডব করে যাচ্ছে। অস্ত্রধারি হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজী নন। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছোট হাবির পাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভী পাড়া, কচুবনিয়া পাড়া, খোনকার পাড়া, গোদার বিল, মহেশখালীয়াপাড়া, ডেইল পাড়া ঘিরে গ্যাংটি তাদের অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের তথ্য মতে, মোহাম্মদ ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অপরাধে ইতিমধ্যে ৬টির বেশি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে একটি জায়গা দখলে ঘটনায় একটি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়ে পরিবারের সদস্যদের হত্যার চেষ্টা, পুলিশের ওপর হামলা-গুলি বর্ষণ, চাঁদা দাবি, হত্যার চেষ্টাসহ ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।
আওয়ামীলীগের আমলে ভাইকে ব্যবহার করে এমন অপকর্ম করে বেড়ালেও বর্তমানেও অদৃশ্য কারণে বন্ধ হয়নি গ্যাংটি অত্যাচার। বরং ৬ জুলাই ইয়াবাসহ র্যাবের হাতে দুই সদস্য গ্রেপ্তারের পর তথ্য পাচারের অভিযোগে এলাকায় তিন বাড়ির সামনে রাতে গুলি বর্ষণ করে ওই পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে থানায়ও লিখিত অভিযোগ করার তথ্যও মিলেছে।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, আমি ওই ধরনের লোক না। এলাকায় এসে সরেজমিনে তদন্ত করে দেখতে পারেন, যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, এ ধরণের কোন অভিযোগ হাতে আসেনি। ইসলাম সম্পর্কে, পুলিশ খোঁজ খবর নিচ্ছে।