শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারের ঘটনা ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মানসিকতা, তাদের বিব্রতকর পারফর্মেন্স। একসময়ের ওয়ানডেতে শক্তিশালী দলটির হারার আগে হেরে যাওয়ার মানসিকতা দেখে সবাই যখন হতভম্ব, তখন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও যেন খেই হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি কখন কী বলছেন, নিজেও হয়তো জানেন না!
গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে মঙ্গলবার ৯৯ রানে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে দলের ব্যাটিং ধস নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমরা যারা সেট হচ্ছি, তারাই আউট হয়ে যাচ্ছি। খেলাটা মোমেন্টামের ব্যাপার। যে মোমেন্টাম নিচ্ছে, সেই আউট হয়ে যাচ্ছে। আমি, (তাওহীদ) হৃদয় কিন্তু প্রায় মোমেন্টাম ধরে ফেলেছিলাম। আমার আউটের পর তারা (শ্রীলঙ্কা) মোমেন্টাম পেয়েছে। দুই পার্টনারের স্ট্রাইক রোটেট করে কীভাবে লো রিস্ক খেলা যায়। হাই রিস্ক খেললে আউট হওয়ার চান্স থাকবে। এই জায়গাতে আমাদের কাজ করা দরকার।’
ব্যাটসম্যানদের ‘লো রিস্ক’ নিয়ে খেলার কথা বললেও মিরাজ নিজের আউটের বেলায় ‘বেশি রিস্ক’ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, ‘আমি যে সময়ে আউট হয়েছি এটায় দল একটু চাপে পড়ে গেছে। আমি চিন্তা করেছিলাম, রানটা যেন কনটেইন করতে পারি। কারণ প্রতি ওভারে যদি বাউন্ডারি নিতে পারি রান রেট ঠিক থাকবে!’
রান তাড়ায় নেমে বিস্ময়করভাবে ৭৮ বলে ৫১ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। তাকে আগলে রাখতে গিয়ে আবারও নিজের বক্তব্য পাল্টে ফেলেন মিরাজ! বলেন, নিজে রিস্ক নিয়ে আউট হলেও হৃদয়কে চাপমুক্ত হয়ে খেলতে বলেছেন, ‘আমি হৃদয়কে চাপ দিতে চাইনি, আমি চেয়েছি রানটা যেন কনটেইন করতে পারি। এরকম মাঝেমধ্যে ক্যালকুলেটিভ রিস্কগুলো নিতে হয়। আমি হয়তো প্রপার এক্সিকিউট করতে পারিনি। পারলে হয়তো বাউন্ডারি পেতাম।’
এতক্ষণ ব্যাটসম্যানদের কম রিস্ক নেওয়ার কথা বললেও একপর্যায়ে মিরাজ বলে বসেন, টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা রিস্ক নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তিনি নাকি তাদের স্বাধীনতা দিতে চেয়েছেন, ‘আমাদের টপ অর্ডার ব্যাটাররা কিন্তু রিস্ক নিয়ে খেলতে পছন্দ করে, বাউন্ডারি মারতে পছন্দ করে। সেটাকে সাপোর্ট না করে যদি আটকে দেই, তাহলে কঠিন হবে। আমরা প্রত্যেক প্লেয়ারকে তাদের শক্তির জায়গাতে ব্যাক করতে চেষ্টা করছি। হয়তো অনেক সময় সফল হব, অনেক সময় ব্যর্থ হব। তবে যার যা শক্তি চেষ্টা করি সেখানে ব্যাক করার জন্য।’