মোসাদ্দেককে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন না অধিনায়ক মিরাজ

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম

ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দীর্ঘ চার বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ডাক পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। তবে দলে তার ফেরা নিয়ে পুরোনো এক বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। ল।সাবেক প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু একসময় মন্তব্য করেছিলেন, মেহেদী হাসান মিরাজ দলে থাকা অবস্থায় মোসাদ্দেকের সুযোগ পাওয়া কঠিন। যদিও পরে এই মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন সাবেক এই প্রধান নির্বাচক।

এবার সেই 'মিরাজ বনাম মোসাদ্দেক' প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে সরাসরি মুখ খুললেন খোদ ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরপুরে সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মোসাদ্দেককে তিনি কোনোভাবেই নিজের প্রতিযোগী মনে করেন না। বরং দলে এমন একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারের অন্তর্ভুক্তি অধিনায়ক হিসেবে তার কাজকে আরও সহজ করবে।

মিরাজ অতীত মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, দুজনের একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা বেশ পুরোনো। তারা ২০১৯ বিশ্বকাপেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের হয়ে লড়েছেন। একাদশে দুজনের ভূমিকা যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, সেটিও স্পষ্ট করেন অধিনায়ক,  "মোসাদ্দেক মূলত একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আর আমার ভূমিকা বোলিং অলরাউন্ডারের। ফলে আমাদের পজিশন বা রোল নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। ও যদি নিজের সেরাটা দিতে পারে, তবে দিনশেষে লাভটা দলের এবং অধিনায়ক হিসেবে আমারই।"

 

পরিসংখ্যানও মিরাজের কথার সপক্ষে কথা বলে। ২০১৬ সালে ওয়ানডেতে মোসাদ্দেকের অভিষেকের ঠিক এক বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসেন মিরাজ। এ পর্যন্ত মোসাদ্দেক ৪৩টি এবং মিরাজ ১২০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন, যার মধ্যে ২৭টি ম্যাচে তারা একসঙ্গে একাদশে ছিলেন।

চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) আবাহনীর হয়ে ব্যাট-বলে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন মোসাদ্দেক। ৭ ইনিংসে ১৩৩.৩৩ স্ট্রাইক রেট এবং ৬৭.৩৩ গড়ে ৩৩৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতেও শিকার করেছেন ১২টি উইকেট। ঘরোয়া ক্রিকেটের এই দুর্দান্ত ফর্মকে বিবেচনা করেই হাবিবুল বাশারের নির্বাচক কমিটি তাকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে যুক্ত করেছে।

অধিনায়ক মিরাজও মনে করেন, মোসাদ্দেককে দলে ফেরানোর এটাই উপযুক্ত সময়, "ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক পারফর্ম করছে এবং বর্তমানে খুব ভালো ছন্দে আছে। মিডল বা লোয়ার-মিডল অর্ডারে আমরা যে পজিশনটার কথা ভাবছি, সেখানে ও নিজেকে প্রমাণ করতে পারলে দলের ভারসাম্য অনেক বাড়বে।"

মোসাদ্দেকের মতো একজন পার্ট-টাইম অফ-স্পিন অপশন দলে থাকা অধিনায়কের জন্য বড় স্বস্তির কারণ। মিরাজ জানান, কোনো ম্যাচ বা দিনে একজন মূল বোলারের খারাপ সময় যেতেই পারে। তেমন পরিস্থিতিতে মোসাদ্দেকের মতো পরীক্ষিত একজন ব্যাকআপ বোলার থাকলে দলের আত্মবিশ্বাস অনেক বেড়ে যায়।

আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত