গাজীপুরের শ্রীপুরে দিনে-দুপুরে জনাকীর্ণ এলাকায় আগ্নেয় অস্ত্র ঠেকিয়ে এক স্কুলছাত্রকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। জোর করে বেশ কজনমিলে এক স্কুলছাত্রকে তুলে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পুলিশ নড়েচড়ে বসে। শুরু করে অভিযান।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধানুয়া গ্রামের হাজী প্রি ক্যাডেট স্কুলের সামনে অস্ত্র ঠেকিয়ে স্কুল ছাত্রকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ একজনকে আটক করে। এ সময় অভিযুক্তের বাড়ি থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করে ও দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশ দাবি করছে উদ্ধার হওয়া পিস্তল আসলে খেলনা অস্ত্র। ভয় দেখাতে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। অনলইন থেকে এটি কেনা হয়েছিল।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করে মারধরে শিকার সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্র ফেরসৌসের বাবা সাইফুল ইসলাম। পুলিশ এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুপুরে ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছে গণমাধ্যমকে। পরে বিকালে আটক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠনো হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম আবু কাউসার (৪৫)। তিনি গ্রামের মৃত সবদুল ভেন্ডারের ছেলে। এ ঘটনায় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে স্কুলছাত্র ফেরদৌস আহম্মেদকে স্কুল ছুটির পর আবু কাউসার ও তার পক্ষের লোকজন জোর করে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় আশাপশের লোকজন এগিয়ে এলে আবু কাউসার পিস্তল সাদৃশ্য এক খেলনা অস্ত্র দিয়ে লোজনকে ভয় দেখিয়ে স্কুলছাত্রকে তুলে নিয়ে যায়। দুই ঘণ্টা পর মারধর করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
অপহৃত স্কুলছাত্রের মামা নাদিম মাহমুদ বলেন, ভাগিনা ফেরদৌসকে জোর করে অস্ত্র ঠেকিয়ে তুলে নেওয়ার পর থেকে অস্ত্রধারীর স্বজনদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। এরপর অস্ত্রধারীরা দু ঘণ্টা পর আমাদের হাতে ফেরদৌসকে তুলে দেয়। তবে কি কারতে তাকে তুলে নেওয়া হয় তা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, দুপুরে স্কুল ছুটি হওয়ার পর বেশ কয়েকজন কিশোর এসে ফেরদৌসকে ধরে নিয়ে যাওয়া শুরু করেন। এ সময় ওরা স্কুলছাত্র ফেরদৌসকে মারতে থাকে। এ সময় সবাই ডাক চিৎকার শুরু করলে শিক্ষকরা এগিয়ে আসেন। তারা বলেন আমাদের স্কুলের রুবেল স্যার এগিয়ে গেলে তার দিকে পিস্তল তাক করে অস্ত্রধারী আবু কাউসার। তর্কে জড়িয়ে সে বেশ কয়েকবার গুলি করার চেষ্টা করে। বেশ কয়েকবার স্যারের বুকে পিস্তল তাক করে আবু কাউসার। পরে আমরা সবাই চরম ভয়ে পিছুহটে যাই। এ সময় আমাদের সহপাঠি ফেরসৌসকে মারতে মারতে তারা অন্যত্র নিয়ে যায়।
শ্রীপুর মডেল থানার ওসি মহাম্মদ আবদুল বারিক জানান, অস্ত্রের মুখে (খেলনা অস্ত্র) এক স্কুল ছাত্রকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে খেলানা পিস্তল উদ্ধার করা হয়। ভয় দেখাতে অনলাইন থেকে ওই খেলনা পিস্তলটি কেনা হয়েছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।