দেশীয় কাঁচা মরিচের ঝাঁজ বাড়তে শুরু করায় দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ প্রায় ৮ মাস পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি শুরু হয়েছে। এতে দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমে আসবে বলে মনে করছে বন্দরের ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় ভারত থেকে একটি মিনি ট্রাকে ৩ হাজার ৮০০ কেজি কাঁচামরিচ দেশে প্রবেশের মধ্য দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। বাংলাদেশের শাহ এক্সিম প্রাইভেট লিমিটেড নামে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের এনপি ট্রেড ইন্টারন্যাশনানের মাধ্যমে এসব কাঁচা মরিচ আমদানি করছেন।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আরও ১ ট্রাকে ৬ হাজার ৭২০ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়। ভারতের জগন্নাথ এন্টারপ্রাইজের রপ্তানি করা এ কাঁচা মরিচ আমদানি করে বাংলাদেশের সততা বাণিজ্যালয়। ভারতের ইসলামপুর থেকে এসব কাঁচা মরিচ আমদানি করা হচ্ছে।
কাঁচামরিচ আমদানিকারকের সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট জাবেদ হোসেন রাসেল বলেন, দেশে হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে কাঁচা মরিচের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বাড়তে বাড়তে ১৬০ টাকায় ঠেকেছে কাঁচা মরিচের দাম। এতে বেশ বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
এমন অবস্থায় দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানিকারকরা কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করেছে। চলতি বছর প্রথম বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম কমে আসবে।
জানা গেছে, প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে সরকারকে শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকার মত। যদি শুল্ক একটু কমানো হয় দেশের মানুষ আরও কম দামে খেতে পারবে। সবমিলিয়ে দেশীয় যে কাঁচামরিচের দাম রয়েছে তার চেয়ে কিছুটা কমে বিক্রি হবে।
হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে উপ-সহকারী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ গত ১৫ নভেম্বর ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছিল। এর পরে আমদানির অনুমতি না থাকায় কাঁচামরিচ আমদানি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু করে। ফলে প্রায় ৮ মাস বন্ধের পর আজই প্রথম বন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। দুটি ট্রাকে ১০ হাজার ৫২০ কেজি কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। আমদানিকৃত কাঁচামরিচ পরীক্ষা করে দ্রুত কাস্টমসের ছাড়পত্র প্রদানে আমদানিকারকের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।