উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের ৫ উপজেলার ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলাগুলো হলো সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও শাহজাদপুর। ইতিমধ্যে এসব এলাকার বেশকিছু আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে নদীতীরের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। এদিকে দিনভর বৃষ্টির কারণে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। নি¤œ আয়ের মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের হার্ডপয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর উপজেলার মেঘাই পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮১ সেন্টিমিটার ও কাজীপুর পয়েন্টে ২০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটপিয়ারি ও বাহুকা, কাজীপুর উপজেলার চরাঞ্চলের নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি ইউনিয়ন, চৌহালী উপজেলার জনতার স্কুল এলাকা, উমারপুর ইউনিয়ন, স্থল ইউনিয়নের তেঘরি, কুড়াগাছা, লাঙ্গলমুড়া, ছোট চৌহালী ও ঘোড়জান ইউনিয়নের ফুলহারা ও চালুহারা গ্রাম, শাহজাদপুর উপজেলার গালা ইউনিয়নের গোপালপুর, সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর, শ্রীপুর, কুরসি, মাকড়া, ভাটদিঘুলিয়া ও কৈজুরী ইউনিয়নের চর ঠুটিয়া গ্রাম এবং বেলকুচি উপজেলার বড়ধূল ও সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন এলাকার আখ, পাট, বাদাম, পটোল ও সবজিক্ষেত, কাউনসহ বহু ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের তা-বে কাজিপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নের ভেটুয়া গ্রামে অন্তত ১০০টি বসতবাড়ি ও শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের অন্তত ৫০টি বাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া কাজীপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরগিরিশ নি¤œ মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ভেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের মুখে পড়েছে। এদিকে, চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নের তেঘরি এলাকার মানুষ ভাঙনরোধের দাবিতে গত ৬ জুলাই নদীতীরে মানববন্ধন পালন করেছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘নদীতে পানি বাড়ার কারণে প্রবল স্রোত বইছে। এ কারণে নদীতীরের বেশ কিছু স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপিয়ারী ও বাহুকা এলাকায় জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নদীতীরে সর্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নদীতে পানি বাড়লেও এই মুহূর্তে ব্যাপকভাবে বন্যার আশঙ্কা নেই।’