ত্রিশালে কাদায় থেমে যাচ্ছে যান, দুর্ভোগে যাত্রীরা

ময়মনসিংহের ত্রিশালের আমীরাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিগঞ্জ বাজার থেকে উপজেলা সদরে আসার দুটি পাকা সড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এই সড়ক দুটি মেরামত না করায় প্রাচীন এ বাজারটি এবং আমীরাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। বেহাল সড়কের কারণে গাড়ি চালানো দুষ্কর। বৃষ্টি হলেই সমস্যা আরও বাড়ে। কাদাপানিতে বারবার আটকে যায় গাড়ির চাকা। এসব কারণে এখানকার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ত্রিশাল উপজেলার আমীরাবাড়ী ইউনিয়নে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একাধিক ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রয়েছে একটি ডিগ্রি কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রাচীন বাজার হচ্ছে কাশিগঞ্জ বাজার। বাজার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়কটির দুপাশে আমীরাবাড়ী গ্রাম। প্রাচীন কাশিগঞ্জ বাজারটি খিরু নদীর তীরে অবস্থিত। এক সময় খিরু নদীর মাধ্যমেই ধান, পাট ও কৃষিপণ্য বিকিকিনি হতো। এই নদীটি ব্রহ্মপুত্র এবং শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে ত্রিমোহনায় যুক্ত হয়েছে পাশের কাপাসিয়া উপজেলায়। এক সময়ের নদীপথের বাজারটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথের কারণে। এই বাজারে ব্যাংক থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ভূমি অফিস রয়েছে। বাজারটি থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দূরত্ব দুই কিলোমিটার। আরেকটি সড়কও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঢুকেছে, সেটির দূরত্বও আড়াই কিলোমিটার। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে ত্রিশাল উপজেলা সদরে আসা সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের কোথাও পিচ নেই। খানাখন্দ আর ভাঙা রাস্তার কারণে চলাচল করা দায়। পাকা সড়ক দুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করলেও সড়ক দুটি সংস্কার করা হয় না দীর্ঘদিন। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। খানাখন্দের কারণে এই সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝেমধ্যেই বড় গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে যানবাহন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কাশিগঞ্জ বাজার থেকে ত্রিশাল উপজেলা সদর কিংবা দেশের অন্য যেকোনো স্থানে যেতে হলে এই সড়ক দুটি ব্যবহার করতে হয়। সড়ক দুটি এত খারাপ যে রিকশা পর্যন্ত চলাচল করতে পারেনা। সড়ক খারাপ থাকার কারণে মোকামে পাইকারদের আনাগোনা কমে গেছে। এক যুগ আগে সড়ক দুটি সংস্কার করা হয়েছিল। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। ইতিমধ্যে সড়কের ইটের খোয়া বেরিয়ে গেছে। একটু পরপরই বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

স্থানীয় মানিক মিয়া বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে অন্য কোনো গ্রাম বা ত্রিশালে আসতে হলে এ দুটি সড়ক দিয়েই আসতে হয়। মাছের ট্রাক আর ভারী গাড়ির কারণে সড়কটি খুব খারাপ হয়ে গেছে। আমরা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী ইন্দুভূষণ বিশ্বাস বলেন, ‘ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে কাশিগঞ্জ বাজার পর্যন্ত সড়কটি টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে অন্য সড়কটির জন্য এ বছর কোনো বরাদ্দ নেই।’