ইয়ানিক সিনার যেন প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠলেন। রোলাঁ গারোঁর ফাইনালে তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট হাতছাড়া করার পর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আবার সেই মঞ্চ—তবে এবার ঘাসে, উইম্বলডনের সেন্টার কোর্টে। আর তার ঠিক আগেই, তিনি থামিয়ে দিলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা—নোভাক জকোভিচকে।
৬-৩, ৬-৩, ৬-৪ ব্যবধানে জোকোভিচকে সরাসরি সেটে হারিয়ে সিনার পৌঁছে গেলেন তার প্রথম উইম্বলডন ফাইনালে। এই জয়ে তিনি হয়ে গেলেন ওপেন যুগে মাত্র ১১তম খেলোয়াড়, যিনি চারটি গ্র্যান্ড স্লামের সবকটিরই ফাইনালে পৌঁছেছেন।
চোটের কারণে পুরোপুরি ফিট না থাকা জোকোভিচের জন্য দিনটা কঠিন ছিলই। কোয়ার্টার ফাইনালে কোবোলির বিরুদ্ধে ম্যাচের শেষ দিকে পড়ে গিয়ে বাঁ ঊরুতে চোট পান তিনি। সেই চোট নিয়েই নামতে হয় সেমিফাইনালে, যেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, উইংয়ে টেনে নেওয়া বলগুলোতে তার প্রতিক্রিয়া অনেক ধীর।
কিন্তু সেসবের বাইরেও সিনারের প্রশংসা প্রাপ্য। তিনি যেন চূড়ান্ত ফোকাসে ছিলেন। স্রেফ একবার—তৃতীয় সেটের শুরুতে ০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন। এরপরই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে পাঁচ গেম টানা জিতে ফের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন ৭ বারের উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন জোকোভিচকে।
“আমি খুব ভালো সার্ভ করেছি,” ম্যাচশেষে বললেন সিনার। “আসলে নিজেকে অনেক শান্ত রেখেছি, জানতাম সুযোগ আসবে।”
ব্লকবাস্টার ফাইনাল: সিনার বনাম আলকারাজ, আবার!
রবিবার উইম্বলডনের ফাইনালে সিনারের প্রতিপক্ষ কার্লোস আলকারাজ—আধুনিক টেনিসের ‘বিগ টু’ প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে চলা দুই তরুণের আরেকটি মহামঞ্চের দ্বৈরথ।
হেড-টু-হেডে আলকারাজ অনেকটাই এগিয়ে—৮-৪। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে জিতেছেন স্প্যানিশ এই বিস্ময়বালক। তবে ঘাসে একমাত্র মোকাবেলায় জয় সিনারের, সেটি ২০২২ সালে উইম্বলডনের চতুর্থ রাউন্ডেই।
সিনার-আলকারাজ মিলে এর আগের ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি ভাগ করে নিয়েছেন। রোববার যেই জিতুন না কেন, সাতটি ট্রফির মালিক হবে এই দুই তরুণ। এটি শুধু ব্যক্তিগত যুদ্ধ নয়—এটিপি বর্ষসেরা র্যাঙ্কিংয়ের লড়াইটাও। বর্তমানে আলকারাজ এগিয়ে আছেন ২,২৪০ পয়েন্টে, তবে সিনার যদি শিরোপা জেতেন, এই ব্যবধান নেমে আসবে ১,৫৪০ পয়েন্টে।
“আলকারাজ এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমি শ্রদ্ধা করি। ওর খেলা দেখতে আমি ভালোবাসি,” বললেন সিনার। “আশা করছি, রোলাঁ গারোঁর মতোই একটা দুর্দান্ত ম্যাচ হবে।”