দেশব্যাপী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জাবিতে মশাল মিছিল

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল এলাকায় যুবদল নেতা কর্তৃক ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ (৩৯) হত্যাকাণ্ড, খুলনায় গুলি করে ও রগ কেটে বহিষ্কৃত যুবদল নেতাকে খুন এবং চাঁদপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে মসজিদের খতিবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একদল শিক্ষার্থী।

আজ শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশ থেকে একটি মশাল মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।

নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরের বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন চারুকলা বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সাদিয়া মুন।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবি বলেন, একজন মানুষকে মেরে ফেলার পর লাশের উপর লাফিয়ে তারা দেখাচ্ছে, তাদের কতটা ক্ষমতা, আওয়ামী লীগের মত তারাও মানুষকে মারতে পারে। তারা ভাবছেন এটা একটি রাজনৈতিক ঘটনা, তারা কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন কাল আপনাকে বা আপনার পরিবারের কেউ চাঁদাবাজদের হাতে মার খাবে না। যদি বলতে না পারেন তাহলে আপনাদের বোঝা উচিত, জুলাই সংগ্রামের এক বছর আমরা এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি। গত বছরের জুলাইয়ে আমরা যে বিভীষিকার মধ্যে ছিলাম, আমার মনে হয় আজকে আমাদের সেই বিভীষিকা আরও বেড়ে গেছে। আমরা আন্দোলনের আশানুরূপ কোনো ফল পাইনি। তখন যারা ভয়ে ছিল এখন তারা নিজেদেরকে রাজা মনে করে। তারা মনে করে, তারা চাইলে মানুষকে রগ কেটে, পাথর মেরে মারতে পারবে। আজকে মানুষকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলার পরেও যে বিচার হচ্ছে না তার ফলাফল আরও ভয়াবহ হবে। আরও মানুষ মরার আগে আপনারা সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রশ্ন করুন যে, তাদেরকে এত সহস ও ক্ষমতা কে দিয়েছে।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্কসবাদী) জাবি শাখার সংগঠক সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, এই অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গুম, খুন, ধর্ষণসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধের দাবিতে আমাদের এখনো বিক্ষোভ করতে হচ্ছে। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। যখন কোনো হত্যাকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত না করে বরং সেটিকে হালকা করার চেষ্টা করা হয়, তখনই অপরাধীরা নতুন করে হত্যাকাণ্ডে উৎসাহ পায়। সোহাগকে যে চাঁদাবাজির কারণে হত্যা করা হয়েছে, তার দায় যেমন বিএনপির, তেমনি সমানভাবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেরও।

তিনি আরও বলেন, সোহাগ হত্যাকাণ্ড, জাবির শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ড, চাঁদপুরে খতিব সাহেবকে হত্যা, মাজার ভাঙা, মন্দির ভাঙা কিংবা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুরের সব ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। আমরা আগেও বলেছি, দেশে সন্ত্রাস চালায় তিন দল—লীগ-শিবির-ছাত্রদল। আগে সন্ত্রাসে ছাত্রলীগের নাম শোনা যেত, এখন শিবির ও ছাত্রদল সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এই সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে জনগণকে এসবের বিরুদ্ধে সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।