টানা নয় মাস পর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরছে মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। আগামী ২০, ২২ ও ২৪ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শুরু হচ্ছে এই প্রত্যাবর্তন। তবে এই প্রত্যাবর্তন যেমন উত্তেজনার, তেমনি বিতর্কেরও—কারণ বাড়ানো হয়েছে টিকিটের দাম।
বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিশ্চিত করেছে টিকিটের মূল্য। তবে গত বছরের মে মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মিরপুরের ম্যাচে টিকিটের সর্বনিম্ন দাম ছিল ২০০ টাকা। সেই টিকিটের মূল্য বেড়েছে ১০০ টাকা। সর্বোচ্চ ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে মূল্য।
এবার সর্বনিম্ন করা হয়েছে ৩০০ টাকা। আর সর্বোচ্চ টিকিটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি—১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা। যদিও জুলাই আন্দোলনে আহতদের জন্য ফ্রিতে খেলার দেখার ব্যবস্থা রেখেছে বিসিবি। সেজন্য দিয়েছে মাত্র ১০০ টিকিট বরাদ্দ।
সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি হয়েছিল গত বছরের ২১ অক্টোবর, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। বাংলাদেশ সে ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল চার দিনেই। টি-টোয়েন্টি হয়েছিল তারও পাঁচ মাস আগে, ১২ মে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ওয়ানডে তো আরও পেছনে—২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেটের খেলা হয়েছে মিরপুরের। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষে তো হোম অব ক্রিকেটের গ্যালারি ছিল যেন শূন্যতার প্রতিচ্ছবি।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে ভরসা পাওয়ার উপায় নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে হেরে আসা সিরিজ (২-১), পাকিস্তানে দ্বিতীয় সারির দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ, শ্রীলঙ্কায়ও তেমনই হতাশাজনক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে মাঠে সমর্থক টানার জন্য খুব একটা ইতিবাচক ছবি নয়। তার ওপর এমন সময়ে টিকিটের দাম বাড়ানো অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে বিসিবির অবিবেচক সিদ্ধান্ত। গ্যালারিতে আগ্রহ যখন তলানিতে, তখন দর বাড়ানো মানেই তো নতুন করে দর্শক খরার সম্ভাবনা!
তবে এসব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু। তার ভাষায়, ‘দলটা পাকিস্তান বলেই দাম বাড়ানো হয়েছে। কারণ অনেক স্টার ক্রিকেটারকে মাঠে থেকে দেখা যাবে। ২০০ থেকে ৩০০ হয়েছে। এটা খুব বেশি না। তাছাড়া সবকিছুর মূল্যও তো বাড়ছে। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা হয় না। তাই আমরা আশাবাদী, দর্শক হবে মাঠে।’
দর্শক থাকবে কি না—তা বোঝা যাবে মিরপুরের গ্যালারিতে। তবে ক্রিকেটের বর্তমান বাজারে যখন গ্যালারিমুখী সমর্থকের সংখ্যা কমছে, তখন টিকিটের দাম বাড়িয়ে বিসিবি ‘ক্রিকেটপ্রেম’কে কতটা মূল্যায়ন করল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এবারে সৌজন্য টিকেট বাদে প্রায় ৭০ ভাগ টিকেট অনলাইনে বিক্রি করবে বিসিবি। সেজন্য গ্রাহককে www.https://gobcbticket.com.bd এর মাধ্যমে অনলাইনে টিকেট কিনতে হবে।
অর্থ পরিশোধ করা যাবে যে কোন ব্যাংকের কার্ড বা ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে। একজন নিবন্ধিত গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪টি টিকেট কিনতে পারবেন। টিকেট অনলাইনে ক্রয়ের পর নিজেরাই প্রিন্ট করে নিয়ে আসতে পারবেন স্টেডিয়ামে, অথবা মোবাইলে ই-টিকেটের 'কিউ আর কোড' প্রবেশ পথে দেখালেই স্ক্যান করে নিরাপত্তারক্ষীরা মাঠে প্রবেশ করতে দেবেন, সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন মাহবুব আনাম। একটি টিকেটের একাধিক প্রিন্ট আউট বা ফটোকপি যদি বিতরণ করা হয়ে থাকে, তাহলে যে প্রথমে ঢুকবেন তারই প্রবেশাধিকার থাকবে। অন্যরা আর ঢুকতে পারবেন না।
১৫ জুলাই থেকে শুরু হবে টিকেট বিক্রি, মাহবুব আনাম জানিয়েছেন তারা যে সার্ভার ব্যবহার করছেন সেটা বিপুল ব্যবহারকারীর চাপ নিতে সক্ষক। একই সঙ্গে এটাও জানিয়েছেন, কোনো ম্যাচের টিকেট অবিক্রিত থাকলে সেটা ম্যাচের দিন মিরপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বুথেও বিক্রি হবে।
টিকিটের মূল্য তালিকা :
ক্লাব হাউস (সাউথ - শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ড, আপার ও লোয়ার টিয়ার): ৮০০ টাকা
ক্লাব হাউস (নর্থ - শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড): ৮০০ টাকা
ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি (নর্থ - মিডিয়া ব্লক): ১৫০০ টাকা
ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি (সাউথ - কর্পোরেট ব্লক): ১৫০০ টাকা
ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ (সাউথ - কর্পোরেট ব্লক): ৩৫০০ টাকা
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড (লোয়ার ও আপার টিয়ার): ২৫০০ টাকা
শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড: ৪০০ টাকা
নর্দার্ন গ্যালারি: ৪০০ টাকা
ইস্টার্ন গ্যালারি: ৩০০ টাকা