ক্লাব বিশ্বকাপে গোল ১৯৫, ছাড়িয়ে গেছে মেসির জেতা বিশ্বকাপকেও

শেষ হলো রোমাঞ্চকর আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। মাঠের লড়াই যেমন ছিল টানটান উত্তেজনার, তেমনি গোলের সংখ্যাতেও ছিল বৃষ্টির রূপ। 

পুরো টুর্নামেন্টে মোট গোল হয়েছে ১৯৫টি। ম্যাচপ্রতি গড়ে গোলের সংখ্যা প্রায় ৩.১, যা এই প্রতিযোগিতাকে করেছে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শনীয়। এমন গড় গোলসংখ্যা প্রমাণ করে—দলগুলো শুধুই রক্ষণাত্মক খেলে নিরাপদ থাকার চেষ্টা করেনি, বরং আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছে, যার ফলেই এসেছে এতগুলো গোল।

গ্রুপ পর্বেই সবচেয়ে বেশি গোল দেখা গেছে—৪৮ ম্যাচে হয়েছে ১৪৪টি গোল। এতে বোঝা যায়, শুরু থেকেই খেলায় ছিল গতি, ধার এবং আক্রমণের প্রবণতা। এমন নয় যে, রক্ষণভাগের কাজটি দুর্বল ছিল। বরং টুর্নামেন্টজুড়েই ক্লিন-শিটের সংখ্যাও ছিল বেশ উঁচু পর্যায়ে। মোট ৩৯টি ম্যাচে কোনো দলই গোল খায়নি, অর্থাৎ ম্যাচের প্রায় ৬৪ শতাংশেই অন্তত একটি দল রেখেছে নিজেদের জাল অক্ষত।

গোলের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডান পা দিয়ে হয়েছে সর্বাধিক ১৯টি গোল। বাম পা ব্যবহার করে বল জালে জড়িয়েছে ১৩ বার। হেডের মাধ্যমে হয়েছে আরও ১২টি গোল। অর্থাৎ, মাঠে দেখা গেছে পায়ের কারিকুরি ও মাথার দারুণ ব্যবহার—দুইয়েরই সমন্বয়ে এসেছে গোল।

আরও গভীরে গিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—কোন খেলোয়াড়ের শট কতবার গোল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তা বোঝাতে ব্যবহৃত এক্সপেক্টেড গোল মেট্রিকেও ছিল বৈচিত্র্য। বেশ কিছু ম্যাচে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিক প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি গোল করে চমক দেখিয়েছেন, আবার কেউ কেউ এক্সপেক্টেড গোল অনুযায়ী ভালো পজিশনেও গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

দলভিত্তিক গোল বিভাজনে কিছু দল গোটা টুর্নামেন্টে ছিল গোল-উৎপাদনে সেরা। বিশেষ করে যেসব দল গ্রুপ পর্ব থেকেই বড় ব্যবধানে জয় পেতে শুরু করেছিল, তারাই শেষ পর্যন্তও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ধারা বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, কিছু দল কেবল নির্ভর করেছে রক্ষণভাগের ওপর, যার কারণে তাদের গোলসংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

ম্যাচ অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কয়েকটি ম্যাচে গোলের বন্যা বয়ে গেছে—যেখানে পাঁচ বা ছয় গোলও হয়েছে এক ম্যাচে। আবার এমন কিছু ম্যাচও ছিল, যেখানে একটি মাত্র গোলেই নির্ধারিত হয়েছে ভাগ্য। এমন বৈচিত্র্যময় ম্যাচের কারণেই এই টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে।

সব মিলিয়ে বলা চলে—টুর্নামেন্টটি ছিল কেবল ফলাফলের নয়, গোলের ঝলকানিতেও ছিল সমৃদ্ধ।