উইম্বলডনে সিনারের রাজত্ব, আলকারাজকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ১১:০৪ এএম

২৩ বছর বয়সে স্বপ্ন পূরণ করলেন ইয়ানিক সিনার। বিশ্বের এক নম্বর এই ইতালিয়ান টেনিস তারকা প্রথমবারের মতো উইম্বলডন শিরোপা জিতেছেন, তাও আবার গতবারের চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে চার সেটের জমজমাট ফাইনালে ৪–৬, ৬–৪, ৬–৪, ৬–৪ ব্যবধানে জিতে শিরোপা হাতে তুলেছেন সিনার।

মাত্র ৩৫ দিন আগে রোলাঁ গারোঁর ফাইনালে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দুই সেট ও তিনটি চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টে এগিয়েও হেরে গিয়েছিলেন সিনার। তবে এবার আলকারাজের সেই হতাশা ফিরিয়ে দিয়েছেন নিজেই। টানা ২৪ ম্যাচ জয়রথ থেমে গেছে স্প্যানিশ তারকার।

ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত সিনার বলেন, 'এটা আমার জন্য খুব স্পেশাল। আমি আমার স্বপ্ন বেঁচে নিচ্ছি।'

এটি সিনারের চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা, তবে প্রথমবার হার্ড কোর্ট ছাড়া অন্য কোনো কোর্টে জয়। একইসঙ্গে, উইম্বলডনে আলকারাজের টানা শিরোপার খরা টেনে দিলেন ইতি।

এই বছরের শুরুতেই তিন মাসের ডোপিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে কোর্টে ফিরেছেন সিনার। রোলাঁ গারোঁতে ভাঙা মন নিয়ে ফিরেও প্রমাণ করলেন, মানসিক দৃঢ়তা তাঁর সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

'প্যারিসে আমি কঠিন হার মানতে হয়েছিল। কিন্তু বুঝেছি কোথায় ভুল করেছি। ভুল মেনে নিয়েছি, কাজ চালিয়ে গেছি। তাই আজ হাতে এই ট্রফি।'

এমনকি উইম্বলডনের মাঝপথে তার কনুইয়ের চোটে এমআরআই করাতে হয়েছিল, তবু হাল ছাড়েননি। চতুর্থ রাউন্ডে গ্রিগর দিমিত্রভের ইনজুরির কারণে ভাগ্যও কিছুটা সহায় হয়।

রজার ফেদেরার–নাদাল–জকোভিচ পরবর্তী যুগে পুরুষ টেনিস খুঁজছিল নতুন দ্বৈরথ। সেই শূন্যস্থান অনেকটাই পূরণ করে দিচ্ছেন সিনার ও আলকারাজ। এই উইম্বলডন ফাইনাল ছিল সেই আধিপত্যের আরেকটি অধ্যায়।

প্রথম সেট জিতে এগিয়ে ছিলেন আলকারাজ। কিন্তু এরপর শুরু হয় সিনারের ‘ক্লিন হিটিং’ ও অসাধারণ কনসিসটেন্সির প্রদর্শনী। দ্বিতীয় সেটে এক গ্লাস শ্যাম্পেইনের কর্ক পড়ে সার্ভের সময় বিরতি পড়লেও, মনঃসংযোগ হারাননি তিনি।

তৃতীয় সেটেও দুইজনের পারফরম্যান্স ছিল সমানে-সমান, কিন্তু নবম গেমে আলকারাজের দ্বিতীয় সার্ভে চড়াও হয়ে ব্রেক করেন সিনার। চতুর্থ সেটে শুরুতেই ব্রেক করে চালকের আসনে বসেন।

শেষ দিকের চাপে ভাঙলেন না সিনার। ম্যাচ পয়েন্ট মিস করলেও পরের সুযোগেই জয়ের সিল মেরে মাটিতে বসে পড়েন তিনি।

'হার সবসময়ই কষ্টের, কিন্তু প্রথমেই ইয়ানিককে অভিনন্দন জানাতে চাই। সে অসাধারণ খেলেছে, এই ট্রফি সে যথাযোগ্যভাবেই জিতেছে।'

শিরোপা ধরে রাখতে না পারলেও ভবিষ্যতে এই দ্বৈরথের উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই প্রত্যাশা।

এটা শুধু একটি ফাইনাল ছিল না— এটিই হতে পারে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথের সূচনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত