মুন্সীগঞ্জ আদালতের বারান্দায় হত্যা মামলার আসামিকে মারধরের ঘটনায় বাদীসহ ১২ জনকে ৪ ঘণ্টা আটক রাখার সাজা দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী দেলোয়ার হোসেন ওই ১২ জনকে সাজা প্রদানের রায় দেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- সদর উপজেলার নৈদিঘির পাথর গ্রামের মামলার বাদী আকলিমা আক্তার (৬০), শফিজল ইসলাম (৩০), মফিজুল ইসলাম (৩৮), মাসুদ রানা (৪৯), আল আমিন (৩২), বর্ষা আক্তার (২৭), মুক্তা বেগম (২৫), বীথি আক্তার (২৭), হেলেনা বেগম (৬১), শাহিন (৫৫), শাহাদাত হোসেন পাপ্পু (৩২) ও রাসেল (৩৩)।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের অষ্টম তলার বারান্দায় গৃহবধূ মিতু আক্তার শ্রাবন্তী (৩২) হত্যার আসামি ও নিহতের স্বামী মো. সুমন মিয়াকে (৫০) মারধর করে বাদীপক্ষের লোকজন। আদালতে হাজিরা শেষে কারাগারে নেওয়ার পথে আদালতের বারান্দায় পুলিশের সামনেই ওই আসামিকে মারধর করেন বাদী পক্ষের লোকজন।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মো. কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক মামলার বাদী আকলিমাসহ ৪ জনকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে আদালতে বিশৃঙ্খলার অপরাধে তাদের বিচার চেয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানান তিনি। এরপর ৪ জনকে আদালতে তোলা হলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৮ জনকে হাজির করা হয়।
এ সময় ওই আদালতের বিচারক ১২ জনকে আদালতের এজলাসের কাঠগড়ায় ৪ ঘণ্টা আটক রাখার সাজা প্রদানের নির্দেশ দেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টার সাজা খেটে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান ওই ১২ জন।
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবীবাজার পূর্বপাড়া এলাকায় গত ১৬ মে দিবাগত রাত ২টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্ত্রী মিতু আক্তার শ্রাবন্তীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী সুমন মিয়া। পরে সে নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এ ঘটনায় নিহতের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।