ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে সেনা সরানো এবং পারস্পরিক বাণিজ্যে আরোপিত বাধা তুলে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গতকাল সোমবার বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। খবর: রয়টার্স
২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এই প্রথম চীন সফরে গেলেন জয়শঙ্কর। ওই সংঘর্ষের পর গত চার বছর ধরে সামরিক অচলাবস্থায় দুই দেশের সম্পর্কও ভেঙে পড়ে। তবে গত অক্টোবর থেকে কিছুটা সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, ‘গত নয় মাসে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হয়েছে, যা মূলত সীমান্তে উত্তেজনা কমার ফল।” তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে সীমান্ত ঘিরে অন্যান্য বিষয়, বিশেষ করে উত্তেজনা হ্রাস নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।’
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেছেন, ‘বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক গতি এসেছে, তা সহজে অর্জিত নয় এবং তা ধরে রাখা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই দেশকে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে, পার্থক্য যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে হবে এবং বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।’
ওয়াং ই বলেন, ‘চীন ও ভারতের একে অপরকে সন্দেহ করার বদলে বিশ্বাস করা উচিত, প্রতিযোগিতার বদলে সহযোগিতা করা উচিত।’
দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার সীমানা পরিষ্কারভাবে নির্ধারিত নয় এবং এটি ১৯৫০ দশক থেকেই বিতর্কিত। ১৯৬২ সালে একবার সীমান্ত যুদ্ধেও জড়িয়েছিল ভারত ও চীন। এরপর কয়েক দশক ধরে আলোচনা চললেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
গত মাসে ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পক্ষে মত দেন। জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমাদের এখন সীমান্ত সম্পর্কিত অন্যান্য দিক যেমন উত্তেজনা কমানো নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি বাণিজ্যে আরোপিত বিধিনিষেধ ও বাধা দূর করার কথাও বলেন, যা পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার পথে অন্তরায় হয়ে আছে।
সম্প্রতি চীন হাইটেক শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যেমন রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট ও যন্ত্রপাতির রপ্তানিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর প্রেক্ষাপটেই জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন। ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম রেয়ার আর্থ খনিজের ভান্ডারের অধিকারী হলেও দেশে এই খাতটি এখনো অনুন্নত।
জয়শঙ্করকে ওয়াং ই বলেন, ‘চীন ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে প্রস্তুত, যাতে বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।’
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, বেইজিং সফরে জয়শঙ্কর শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, হান ঝেং বলেন, ভারত ও চীনকে ধাপে ধাপে বাস্তব সহযোগিতা এগিয়ে নিতে হবে এবং একে অপরের উদ্বেগ ও স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।