সরকারি ভবনে দলীয় কার্যালয়, জামায়াতের দাবি দখল নয়

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার পৌর সদরে বাজার উল্লাপাড়ার কাঁচাবাজার এলাকায় উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি সরকারি একতলা পরিত্যক্ত ভবন দখল ও সংস্কার করে উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দলীয় কার্যক্রম চলছে।

ওই অফিসে ৫নং ওয়ার্ড জামায়াতের সাইন বোর্ড লাগানো হলেও উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেখানে নিয়মিত বসে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এর পাশেই উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের অফিসসহ বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস রয়েছে।

প্রায় দুই থেকে তিন মাস যাবৎ এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি। এদিকে ভবন ও জায়গার প্রকৃত মালিক ও ভবনটির কোন অফিসের তা খুজে বের করার অনুসন্ধান চলছে।

অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে এটি দখল নয় বলে দাবি করা হয়েছে। তারা প্রকৃত মালিককে খুজে বের করে ভাড়া দিতে রাজি আছেন।

এ বিষয়ে এলাকাবাসি জানান, এক সময় এ ভবনটিতে সমবায় সমিতি ও একটি ব্যাংকের শাখার কার্যক্রম চলতো পরবর্তীতে এখানে কিছুদিন বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা চলে যাওয়ার পর থেকে ১০ থেকে ১২ বছর ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। জরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি সংস্কার করে এখন জামায়াতের দলীয় কার্যক্রম চলছে।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. শাহজাহান আলী বলেন, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পরিত্যাক্ত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়েছিল। আবার ভবনটির মালিকও খুজে পাওয়া যায়নি। ফলে আমরা পাশ্ববর্তী প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে কথা বলে ভবনটি সংস্কার করে ২-৩ মাস ধরে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছিলাম। এ নিয়ে লেখালেখি ও নানা কথা শুরু হওয়ায় আমরা ইতোমধ্যেই ওই ভবন থেকে আমাদের দলীয় সাইনবোর্ড খুলে সরিয়ে ফেলেছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভবনটির রুমে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। ভবনটিতে আর আমাদের দলীয় কার্যক্রম চলছে না। ভবনটির প্রকৃত মালিক পাওয়া গেছে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

অপরদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, আমাদের পূর্বের রেকর্ড অনুযায়ী এই ভবনটি সমবায় সমিতির নয়। ভবনের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বগুড়া জোনাল কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের অফিস এক সময় ওখানে ছিল। তবে ভবনটি আমাদের মালিকানাধীন নয়।

এই নিয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ্ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, উল্লাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোছা. শারমিন সুলতানা রিমাকে তদন্ত করে ভবনটির প্রকৃত মালিকানা খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার রিপোর্ট হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।