গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দ্রুত ইপিজেড বাস্তবায়নের দাবিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি পাঠিয়েছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকাল ৫টার দিকে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্বারকলিপি পাঠানো হয়।
একই সময় একই দাবিতে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির নেতৃবৃন্দ প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেয়।
স্বারকলিপি পেয়ে জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, ইপিজেট বাস্তবায়নের বিষয়টি সরকারের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্বারকলিপি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জস্থ রংপুর চিনিকলের জমিতে ইপিজেড স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ইপিজেডের নাম দেওয়া হয় ‘রংপুর ইপিজেড’। বাংলাদেশ রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) কর্তৃপক্ষকে ইপিজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকায় রংপুর চিনিকলের আওতায় ১ হাজার ৮৪২ একর জমি আছে। মোট জমির মধ্যে ৪৫০ একর জমি বেপজাকে বুঝিয়ে দেয় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। ইপিজেড হলে দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেখানে সাঁওতালরা অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু একটি মহল এর বিরোধিতা করছে।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা। প্রস্তাবিত এই ইপিজেড থেকে ৭০ কিলোমিটার দুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর, ৩২ কিলোমিটার দুরে হিলি স্থলবন্দর, ৩৪ কিলোমিটার দূরে সম্প্রসারিত বগুড়া বিমান বন্দরের অবস্থান। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ইপিজেড থেকে মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব ১৭ কিলোমিটার, গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের দূরত্ব ৩২ কিলোমিটার, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দূরত্ব ৭ কিলোমিটার।
যে কারণে যোগাযোগে ও মালামাল সরবরাহ এবং পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ইপিজেড অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তাই বেপজা এই স্থান নির্বাচনের গুরুত্ব দিয়েছে। অথচ একটি মহল সাঁওতালদের ব্যবহার করে ইপিজেড নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা করার চেষ্টা করছে। এদিকে প্রশাসনিক সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও ইপিজেড নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জের মানুষ আন্দোলন সংগ্রাম করছে।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের পক্ষে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি সামিউল হুদা, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর আবদুর রহিম সরকার, বর্তমান জেলা আমীর আবদুল করিম, সাংবাদিক সৈয়দ রোকনুজ্জামান, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আকরাম হোসেন, শিক্ষক আবুল হোসেন সরকার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।