আজ কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ যদি শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই দেয় তাহলে কী হবে? আইসিসির টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট বাড়বে মাত্র ১, শ্রীলঙ্কারও সেই ১ পয়েন্টই কমবে। কোনো দলেরই অবস্থানের উন্নতি বা অবনতি হবে না। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা বা না খেলা নিয়েও কোনো শঙ্কা নেই, দুই দলই নিশ্চিত করেছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ। শ্রীলঙ্কা সহ-স্বাগতিক হিসেবে আর বাংলাদেশ ২০২৪ সালের আসরের সুপার এইটে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে। তাহলে থাকলই বা কী?
উত্তর হচ্ছে, প্রাপ্তির খাতায় যোগ হতে পারে অনেক কিছু। শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে সিরিজ হারের স্বাদ দেওয়ার কীর্তি যোগ হবে বাংলাদেশের খাতায়। তার চেয়ে বড় ব্যাপার হবে টানা তিন সিরিজ হারের লজ্জা বাঁচানো। আরব আমিরাত, পাকিস্তানের পর শ্রীলঙ্কার কাছেও সিরিজ হারলে অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের হ্যাটট্রিক করবেন লিটন দাস। এই বোঝা মাথায় নিয়েই তাকে ঘরের মাঠে নামতে হবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে। আগের ম্যাচে বহুদিন পর খুঁজে পাওয়া গেছে ব্যাটসম্যান লিটনকে, এবারে অধিনায়ক হিসেবে তার কপালটা খুললেই হয়।
চলতি শ্রীলঙ্কা সফরে তিন সংস্করণেই শ্রীলঙ্কাকে বেশ চাপে ফেলেছে বাংলাদেশ। গল টেস্টে ড্র, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সমতায় ফেরানো। সমস্যা হচ্ছে আগের দুইবারই কোণঠাসা অবস্থা থেকে বিপুল বিক্রমে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। কলম্বোয় টেস্টে জুটেছে ইনিংস ব্যবধানে হার, তৃতীয় ওয়ানডেতে ৯৯ রানের হার। শুধু শ্রীলঙ্কাতেই নয়, গত বছরও বাংলাদেশ সফরে এমনই অবস্থা ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার জয়, পরের ম্যাচে বাংলাদেশ জয়ী। সিরিজ জয়ের ম্যাচে এসেই একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের। এবারে গল্পের শেষটা অন্যভাবে লিখতে চায় বাংলাদেশ। কলম্বোয় সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘সবশেষ ম্যাচ আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে মনে হয়েছে ছেলেরা ভালো মোমেন্টাম পেয়েছে এবং আত্মবিশ্বাসও আমাদের আছে। আশা আছে শেষটা যেন ভালোভাবে করতে পারি। আমরা ভালো খেলার চেষ্টা করব। এই মুহূর্তে নতুনভাবে ভাবার কিছু নেই। যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলছি, সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব। মিডল অর্ডারে ভালো করলে আমরা সফলতা পাব। আমাদের মিডল অর্ডারের ওরকম খেলোয়াড় বেঞ্চে নেই। প্রথম ম্যাচে ওভাবে খেলানোর মতো অপশন আমাদের ছিল না। জাকের চোটে ছিল। পরিকল্পনা যা ছিল, সেই অনুযায়ী গিয়েছিলাম। কিন্তু হয়নি। আমরা সবসময় চাই জাকের এবং শামীম শেষ করবে ম্যাচ, তাদের ওপরে এমন দায়িত্ব দেওয়া যাবে না, যেখানে দাঁড়িয়ে তাদের ইনিংস মেরামত করতে হয়। তারা যেন নিশ্চিন্তে খেলতে পারে। আমাদের পরিকল্পনা ওরকমই ছিল।’
কলম্বোর এই স্টেডিয়ামেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালের নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কাকে দুইবার হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল মাহমুদউল্লাহর দল।
ডাম্বুলায় আগের ম্যাচে ব্যাটিং বোলিং ফিল্ডিং সব বিভাগেই এ প্লাস পেয়ে উৎরে গেছে বাংলাদেশ। যদিও টপ অর্ডারের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট অবশ্য ক্যান্ডি বা ডাম্বুলার মতো নয়, বরং অনেকটা মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের সঙ্গেই বেশি মেলে। এখানে স্পিনারদের হাতেই থাকে ম্যাচের নাটাই, রান করাটা সহজ নয় এবং খুব বড় স্কোর হওয়া বা তাড়া করার নজিরও এখানে খুব বেশি নয়। দেশের উইকেটের সাযুজ্য আর আগের ম্যাচের বড় জয়ের আত্মবিশ্বাস, এই দুই জ্বালানিতেই তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিতে যেতে পারে বাংলাদেশ। এই মাঠে ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, পরের ম্যাচে তানভীর ইসলাম নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। তাই হয়তো সাইফউদ্দিনকে বসিয়ে কোনো স্পিনারকেই একাদশে নিতে পারে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কাও চামিকা করুণারতেœর বদলে ফেরাতে পারে লেগস্পিনার দুনিথ ভেলেলাগেকে। টস জয়ী দল এই মাঠে বোলিং নিতেই চাইবে, কারণ গড়ে এখানে প্রথম ইনিংসের রান ১২৫। তাই টসটা হয়ে উঠতে পারে ম্যাচের ভাগ্য নির্ণায়ক।