জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, শেখ মুজিব পালিয়েছিল পাকিস্তানে, শেখের বেটি পালিয়েছে ভারতে। এই শেখের বেটি বাংলাদেশকে ছারখার করার জন্য গোপালগঞ্জের নাম ব্যবহার করেছে। খোঁজ নিয়েছি, শেখের বেটির পাশের লোকের জীবনমানের কোনও উন্নতি হয়নি। বাস্তবিক ক্ষেত্রে তাদের নাম ব্যবহার হয়েছে সবখানে, কিন্তু গোপালগঞ্জবাসীও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আর এই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন শেখের বেটি শেখ হাসিনা দ্বারা।
বুধবার (১৬ জুলাই) শহরের পৌরপার্ক এলাকার এনসিপির সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, শেখের বেটিকে আমরা ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছি। গোপালগঞ্জবাসীর আর ভয় নাই। শেখ পরিবার দ্বারা যারা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের ভয় নাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য পদযাত্রা করছি, আপনাদের দুয়ারে হাজির হয়েছি। আমরা রাজনৈতিক দল গঠন করেছি। শেখের বেটি, শেখের নামে যে রাজনীতি হয়েছে, পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি হয়েছে, তা থেকে বের হয়ে আমরা ভালোবেসে নতুন একটি বাংলাদেশ গঠনের অভিপ্রায়ে বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছি। আপনারা আমাদের সাথে থাকবেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গোপালগঞ্জ ও বগুড়া দুটি জেলার অবদান যেমন রয়েছে, তেমনি বৈষম্যের ক্ষেত্রেও তাদের নাম রয়েছে। আমরা ব্যক্তির রাজনীতি করতে চাই না। বগুড়া, ফেনী, গোপালগঞ্জের রাজনীতিও করতে চাই না। আমরা বাংলাদেশের রাজনীতি করতে চাই। তাই আমি আহ্বান জানাচ্ছি, বগুড়া, গোপালগঞ্জবাসীকে এনিসপির ছায়াতলে আসার জন্য।
সমাবেশ শুরুর আগে সেখানে হামলা চালায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ। এ নিয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, আমাদের এখানে হামলা হয়েছে। পুলিশ নির্ভীকভাবে দাঁড়িয়েছিল। এসব নাটক আমরা হাসিনা আমলেও দেখেছি। নতুন বাংলাদেশে ভবিষ্যতে আমরা এ ধরনের নাটক দেখতে চাই না।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, শেখ হাসিনা আপনাদের ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তিনি যদি গোপালগঞ্জকে ধারণ করতেন, তাহলে ভারতে না গিয়ে গোপালগঞ্জে আসতেন। তার মতো স্বার্থপর... তার ফ্যামিলির মানুষ ছাড়া গোপালগঞ্জবাসীর কথা একবারও ভাবেন না।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের হয়ে উঠতে পারে নাই। আপনারা বাংলাদেশের হয়ে ওঠুন। আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে গোপালগঞ্জকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সংকটে ফেলেছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা গোপালগঞ্জবাসীকে আশস্ত করতে চাই। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের, ফেনীও বাংলাদেশের, বগুড়াও বাংলাদেশের, আমরা এই ৬৪ জেলার সমান অধিকার নিয়ে লড়াই করব। সবার জন্য আমরা সমানভাবে লড়াই করব।
তিনি বলেন, গোপালগঞ্জবাসীকে আহ্বান জানাব, আমরা আপনাদের জালিমের শাসন থেকে মুক্ত করেছি। আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্য আপনাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ব।